তুঘলক লেনের বাড়ির সামনে যুব কংগ্রেসের কর্মীরা জোট বেঁধে আবেদন জানাচ্ছেন, ‘ফিরে আসুন’। লোকসভার সব সাংসদ একযোগে সনিয়া গাঁধীর উপস্থিতিতেই আবেদন করছেন, ‘মেনে নিন’। কিন্তু রাহুল গাঁধী ফের জানিয়ে দিলেন, ‘‘ইস্তফার সিদ্ধান্ত পাকা।’’ 

ভোটের এক মাস অতিক্রান্ত।  তবু কংগ্রেসের এমন ছন্নছাড়া অবস্থা দেখে, রাহুলের হতাশা ‘মেটাতে’ আজ এগিয়ে এলেন নরেন্দ্র মোদীই। 

রাষ্ট্রপতির বক্তৃতায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন বিতর্কে রাজ্যসভায় আজ বক্তৃতা দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কোথাও রাহুলের নাম নেননি। কিন্তু রাহুল যে ব্যালটে ফেরার আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সে খবর রয়েছে তাঁর কাছে। তাই ইভিএম নিয়ে বলতে গিয়ে কতকটা ‘অভিভাবক’-এর মতোই উপদেশ দিলেন কংগ্রেস সভাপতিকে, সঙ্গে রইল চাপা বিদ্রুপও। 

নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে মোদী বলেন, ‘‘এক সময় আমাদের দু’জন সাংসদ ছিলেন। অনেকে উপহাস করতেন। কিন্তু আদর্শে অটল থেকে দলকে দাঁড় করিয়েছি। এটাই তো নেতৃত্বের পরিচয়। হেরে গিয়ে এখন কাঁদছেন কেন? এ কী পদ্ধতি? যখন নিজের উপর ভরসা থাকে না, তখনই ইভিএমে দোষ চাপানোর মতো অজুহাত খোঁজা হয়। আসলে আত্মচিন্তন, দোষ-ভুল স্বীকারের কোনও প্রস্তুতি নেই। এতে দলের কর্মীদের ভাল হয় না। হতাশ হয়ে লাভ নেই। সাহস করে আবার কর্মীদের তৈরি করুন। এটাই কি শেষ ভোট না কি? আরও ভোট আসবে।’’ 

যদিও রাজ্যসভায় যখন মোদী এ সব কথা বলছিলেন, তার চার ঘণ্টা আগেই দলের লোকসভার সাংসদদের কাছে রাহুল ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। হারের দায় নিয়ে আমি আর সভাপতি পদে থাকব না। এ অবস্থান বদল হবে না।’’ কিন্তু মণীশ তিওয়ারি, শশী তারুর থেকে অধীররঞ্জন চৌধুরীর মতো সাংসদরা খোলাখুলি আবেদন করেন, ‘‘হারের দায় কারও একার নয়। এটি সামগ্রিক দায়িত্ব। আপনাকে এই মুহূর্তে দলের সবথেকে বেশি দরকার। আপনার কোনও বিকল্প নেই। তাই সভাপতি পদে থাকা উচিত।’’ 

পাশে বসে সনিয়া চুপ ছিলেন। কিন্তু আলোচনাটি খোলাখুলি হতেও দিয়েছেন। দলের সূত্রের মতে, সনিয়াও চাইছিলেন, রাহুল এবং অন্য সাংসদরা নিজের মনের কথা খুলে বলুন। কিন্তু রাহুল অনড়। তিনি বললেন, ‘‘ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডেকে দল কী ভাবে চলবে, সিদ্ধান্ত নিন। তাতেও শামিল হব না। তবে দলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। সব সাহায্য করব।’’ রাহুলকে সভাপতি পদে থাকার অনুরোধ জানিয়ে লিখিত প্রস্তাবও গ্রহণ করতে চাইছিলেন সাংসদরা। রাহুল বলেন, ‘‘এ সবে কোনও কাজ হবে না।’’ সাংবাদিকরাও প্রশ্ন করেন, ‘‘একমাস হয়ে গেল, আপনি সভাপতি থাকবেন কি থাকবেন না?’’ রাহুল বলেন, ‘‘আমি তো সিদ্ধান্ত দলকে জানিয়ে দিয়েছি। আমি সভাপতি থাকব না।’’ 

আজ যুব কংগ্রেস কর্মীরা রাহুলের তুঘলক লেনের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেন। ২৮ তারিখ থেকে ফের কংগ্রেস দফতরের সামনে বসবেন তাঁরা। ২০০৭ থেকে রাহুলের নেতৃত্বে যুব সংগঠন থেকে যাঁরা উঠে এসেছেন, তাঁরা গতকাল দিল্লিতে বৈঠক করে স্থির করেছেন, যতক্ষণ না রাহুল সভাপতি পদে থাকতে রাজি হবেন, ধর্না চলবে। আজ প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আপ নেহি তো হাম নেহি’। স্লোগান উঠেছে, ‘‘ইয়ে জওয়ানি কিসকে নাম, রাহুল গাঁধী তেরে নাম।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।