পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ধন্যবাদ জানিয়ে করতারপুর করিডরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর উপস্থিতিতেই শনিবার সেখান থেকে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের নরোয়াল জেলায় গুরুদ্বার দরবার সাহিবের উদ্দেশে রওনা দিল ৫৫০ জন পুণ্যার্থীর একটি দল।

কাগজপত্র এবং নিয়ম-কানুন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার জন্য করিডরের পাশেই একটি টার্মিনাল তথা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট গড়ে তোলা হয়েছে। এ দিন দুপুর সওয়া ১টা নাগাদ সেটির উদ্বেধন করেন মোদী। তার পর টুইটারে লেখেন, ‘গুরু নানকজির আশীর্বাদ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দৃঢ় অবস্থানের জেরে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর জন্য করতারপুর করিডর খুলে দেওয়া হল।’

করিডর উদ্বোধনের পর পুণ্যার্থীদের যে দল প্রথমবার পাকিস্তানের ওই গুরুদ্বারে প্রবেশ করতে চলেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহ, কংগ্রেস বিধায়ক নভজ্যোত সিংহ সিধু, বিজেপি সাংসদ সানি দেওল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ পুরি, হরসিমরত কউর-সহ আরও অনেকে।

পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্যই গড়ে তোলা হয়েছে এই করিডর। গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

করতারপুর করিডর সম্পর্কে এ গুলি জানেন!

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের রায়: অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির হবে, মসজিদ বিকল্প জায়গায়

তাঁরা পাকিস্তান রওনা দেওয়ার আগেই করিডর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ইমরান খানকে ধন্যবাদ জানান নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ‘‘ভারতীয়দের আবেগকে সম্মান জানানোর জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ধন্যবাদ জানাই। গুরুনানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকীর আগে করিডরের উদ্বোধন হওয়ায় আমরা খুব খুশি।’’

গুরু নানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ দিন স্মারক কয়েন এবং ডাকটিকিটেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘গুরু নানক ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন। আজ তাঁর সামনে মাথা নোয়ায় গোটা বিশ্ব। এই করিডর নির্মাণের ফলে গুরুদ্বার দরবার সাহিব যাওয়ার আরও সহজ হল।’’

বক্তৃতা করছেন নরেন্দ্র মোদী।

আরও পড়ুন: সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশভক্তির ডাক মোদীর, অযোধ্যা রায়কে স্বাগত জানাল কংগ্রেসও​

এ দিন পাকিস্তানের তরফেও করিডর উদ্বোধনের আলাদা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। ভিসার ঝামেলা ছাড়াই চার কিলোমিটার দীর্ঘ ওই করিডর দিয়ে পাকিস্তানের ওই গুরুদ্বারে যেতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। তবে সঙ্গে পাসপোর্ট রাখতে হবে তাঁদের।