ইসলামাবাদের বিপদ বাড়িয়ে আরও উত্তাল পাক অধিকৃত কাশ্মীর। বালুচিস্তানে অশান্তি আগে থেকেই বাড়ছিল। শনিবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে বিশ্ব জুড়ে পাকিস্তান বিরোধী বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন স্বাধীনতাপন্থী বালুচরা। একই সঙ্গে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরেও। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পাক সেনা সেখানে নির্মম বলপ্রয়োগ করেছে বলেও অভিযোগ উঠে আসছে।

জুলাই মাস থেকেই পাক অধিকৃত কাশ্মীর ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে বলে খবর। ২০১৬-র জুলাইতে নির্বাচন হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। সেখানকার আইনসভার ৪১টি আসনের মধ্যে ৩২টিতেই বিপুল জয় পেয়েছে পাকিস্তানের শাসক দল তথা প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন। নির্বাচনের এই ফলাফলকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ কিন্তু প্রত্যাখ্যান করেছেন। সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি এবং পাক সেনার গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই নওয়াজের দলের হয়ে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করেছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

নির্বাচন বাতিলের দাবিতে জুলাই থেকেই পথে নেমেছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ। বার বারই বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু অশান্তি ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গত কয়েক দিনে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রবল বিক্ষোভ হয়েছে বলে খবর।

আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষায় আমেরিকার ‘বন্ধু’ ভারত

বালুচিস্তানে শুরু হওয়া আন্দোলন নিয়ে এমনিতেই নাজেহাল দশা ইসলামাবাদের। বালুচ ভূখণ্ডে পাক সেনা বলপ্রয়োগ করে আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ করতে পারলেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বালুচদের মুখ তারা বন্ধ করতে পারছে না। শনিবারও ইউরোপ এবং আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বালুচরা পথে নেমে পাকিস্তানকে ধিক্কার জানিয়েছেন। ঠিক সেই সময়েই পাক অধিকৃত কাশ্মীর আবার অশান্ত হয়ে ওঠায় নওয়াজ শরিফের কপালে চিন্তার রেখা আরও গভীর হচ্ছে।

জুলাই থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীর দফায় দফায় বিক্ষোভের সাক্ষী হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিকতম বিক্ষোভের তীব্রতা আরও বেশি। মুজফ্ফরাবাদ, কোটলি, মিরপুর সহ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সব বড় শহরে শ’য়ে শ’য়ে মানুষকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছে। এ বারও ইসলামাবাদের নির্দেশে পাক সেনা প্রবল বলপ্রয়োগ করে বিক্ষোভ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু নিরস্ত্র, সাধারণ মানুষের উপর সেনার এই বলপ্রয়োগ, আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে ক্ষোভের আঁচ।