ভারতের সরকারি পরিসংখ্যানে ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’-এ উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিলেন ১০৮ জন অর্থনীতিবিদ ও সমাজ বিজ্ঞানী। সম্প্রতি জিডিপি (সামগ্রিক উন্নয়ন সূচক)-র নতুন পরিমাপের পাশাপাশি রোজগারের পরিসংখ্যান প্রকাশ না-করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নামী অর্থনীতিবিদ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এত কাল এনএসএসও (ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে অর্গানাইজেশন) বা সিএসও (সেন্ট্রাল স্ট্যাটিসটিক্যাল অফিস)-এর বিরুদ্ধে পরিসংখ্যানের পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। কিন্তু পরিসংখ্যান তৈরির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠেনি, যা এখন উঠছে। ২০১৫-য় জিডিপি-র যে পরিসংখ্যান সিএসও প্রকাশ করে, আগের বছরগুলির হিসেব বাদ দিয়ে তাতে ভিত্তিবর্ষ হিসেবে ২০১১-২০১২ ধরা হয়। এর ফলে জিডিপি-র বৃদ্ধি অনেকটাই আকর্ষণীয় দেখায়। এর পর থেকে প্রতি বছরই জিডিপি-র হিসেবে ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তন করছে সিএসও। এ বছর জানুয়ারিতে নোটবন্দির এক বছরের যে জিডিপি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে, হিসেবের ফাঁকিতে তা ৮.২ শতাংশ করা হয়েছে, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ!  

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ভিত্তিবর্ষ আলাদা আলাদা ধরায় সরকারের দুই পরিসংখ্যান সংস্থা এনএসসি এবং সিএসও গত এক দশকে উন্নয়নের দু’টি পরস্পরবিরোধী রিপোর্ট প্রকাশ করে। পরে সরকারের উপদেষ্টা সংস্থা নীতি আয়োগের ওয়েবসাইটে এনএসসি-র পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে সিএসও-র পরিসংখ্যানটি প্রকাশ করা হয়। স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারছেন না বলে ইতিমধ্যেই এনএসসি-র অস্থায়ী চেয়ারম্যান ও এক সদস্য ইস্তফা দিয়েছেন। 

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

এনএসএসও-ও বিভিন্ন সময়ে রোজগারের যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, তাতেও হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭-১৮-র যে রোজগার পরিসংখ্যান সংস্থাটি তৈরি করেছিল, সরকার তার পুরোটাই খারিজ করে দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিসংখ্যান তৈরিতে এই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সব অর্থনীতিবিদ, পরিসংখ্যানবিদ, স্বাধীন গবেষকদের সরব হতে হবে। দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে পরিসংখ্যান সংস্থাগুলিকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছেও দাবি জানানো হয়েছে।