ত্রিপুরার তরুণ প্রজন্ম ও উপজাতিদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা যায়নি। ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্প তৈরি করে চাহিদা মতো চাকরি জোগানো যাননি। তবে তার পরেও, মানিক সরকারের সরকার সুশাসন ও জাতিগত ঐক্য প্রতিষ্ঠা সত্ত্বেও উপজাতিরা কেন দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল, তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন সিপিএমের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাট।

দলের ইংরেজি মুখপত্রে ত্রিপুরায় মানিক সরকারের পতনের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কারাটের যুক্তি, বাম আমলে উন্নয়নমূলক কাজ হলেও শিক্ষিত যুবকদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়নি। ত্রিপুরার ভৌগোলিক কারণে লগ্নি এনে শিল্প করা যায়নি। ফলে সরকারি চাকরিই ছিল একমাত্র ভরসা। এ দিকে বাম সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করায় শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বেড়েছে। শিক্ষিত উপজাতি যুবকের সংখ্যাও বেড়েছে।

কারাট লিখেছেন— বাম-সরকার উপজাতি, অ-উপজাতিদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করেছিল। তা সত্ত্বেও কেন বিজেপি-আইপিএফটি জোট এত ভোট পেল, উপজাতি মানুষরা কেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। রাজ্য সরকার, পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলির কাজও খতিয়ে দেখে বুঝতে হবে, কোথাও মানুষের সঙ্গে সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়েছিল কি না। দলীয় সূত্রের ব্যাখ্যা— জনসংযোগ যে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, তার প্রমাণ হল হারের আঁচ আগেভাগে না-পাওয়া। কারাটের যুক্তি, এ বারই প্রথম বামফ্রন্টকে বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়তে হয়েছে। এই হারের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিপিএমের রাজনৈতিক, মতাদর্শগত ও সাংগঠনিক কাজের সমীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করেন কারাট