• Ishan
  • ঈশানদেব চট্টোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রাজনীতির দাবা বারে বারে ঘুঁটি সাজিয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে

Indira Gandhi with V.V Giri
ভি ভি গিরির জয় ইন্দিরার রাজনৈতিক জীবনকেও নতুন মোড়ে পৌঁছে দিয়েছিল। ছবি: আনন্দবাজার আর্কাইভ থেকে।
  • Ishan

Advertisement

দুর্জয় ‘গিরি’

মারাত্মক ভুল একটা পদক্ষেপ করলেন এস নিজলিঙ্গাপ্পা। ১৯৬৯ সাল। রাষ্ট্রপতি জাকির হুসেন মারা যাওয়ায় দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ শূন্য। উপরাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তোড়জোড়। এমন এক সন্ধিক্ষণে কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা সতর্ক ভাবে পা ফেলতে পারলেন না। তার জেরেই স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম বার দেশ জুড়ে তুমুল চর্চা আর বিতর্ক শুরু হল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে।

দেশের শাসন ক্ষমতায় তখন কংগ্রেস, প্রধানমন্ত্রী পদে ইন্দিরা গাঁধী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কংগ্রেসের জয় না হওয়ার কোনও কারণই ছিল না। কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা এবং কংগ্রেসের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেত্রী তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে মতের অমিল তখন প্রবল। কংগ্রেস কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়ে মতান্তর তুঙ্গে পৌঁছল। ১১ জুলাই কংগ্রেসের সংসদীয় বোর্ড বৈঠকে বসল প্রার্থী ঠিক করতে। নীলম সঞ্জীব রেড্ডিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করতে চাইলেন নিজলিঙ্গাপ্পা। ইন্দিরা রাজি ছিলেন না। প্রবীণ দলিত নেতা জগজীবন রামের নাম প্রস্তাব করলেন তিনি। কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি পত্রপাঠ খারিজ করে দিলেন সে প্রস্তাব। ইন্দিরা তখন প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়ে সর্বসম্মতির চেষ্টা করা হোক। নিজলিঙ্গাপ্পা রাজি হননি। তিনি সংসদীয় বোর্ডে সে দিনই ভোটাভুটি চাইলেন। সে দিনই ভোটাভুটি হয়। ৬-২ ভোটে পরাজিত হন ইন্দিরা। নীলম সঞ্জীব রেড্ডির নামই ঘোষিত হয় কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে।

আরও পড়ুন: স্বকীয়তা বজায় রেখেই সকলকে নিয়ে চলে অনন্য প্রণববাবু

কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী। ভিতরে ভিতরে কিন্তু তখন
ঘনিয়ে উঠছিল সঙ্ঘাতের মেঘ। ছবি: আনন্দবাজার আর্কাইভ থেকে।

সেখানেই হয়তো ইতি পড়তে পারত বিতর্কে। কিন্তু হার মানার পাত্রী ইন্দিরা গাঁধী অন্তত ছিলেন না। দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক থেকে বেরিয়েই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ঘুঁটি সাজানো শুরু করলেন তিনি। দলের রাশ হাতে না থাকলেও সরকারের রাশ যে তাঁরই হাতে, সে কথা গোটা দেশের সামনে স্পষ্ট করে দেওয়ার জন্য তৎপর হলেন। দলে তথা মন্ত্রিসভায় তাঁর প্রবল প্রতিপক্ষ মোরারজি দেশাইয়ের হাত থেকে কেড়ে নিলেন অর্থমন্ত্রক। মন্ত্রিসভা ছাড়তে বাধ্য হলেন মোরারজি। ইতিমধ্যেই বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির জাতীয়করণও করে ফেলেছেন ইন্দিরা। ফলে সমর্থনের হাওয়া বামপন্থী দলগুলির থেকেও। ইন্দিরাকে নতুন করে চিনতে শুরু করেছে গোটা দেশ।

এই সবই কিন্তু ঘটছিল পর পর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তোড়জোড় চলার মধ্যেই এই বড় বড় পদক্ষেপগুলো করছিলেন ইন্দিরা। তাঁর ভাবমূর্তি দলে এবং দেশে ক্রমে দৃঢ় হচ্ছিল। এমন এক পরিস্থিতিতেই কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। উপরাষ্ট্রপতি এবং কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি— দুই পদ থেকেই ইস্তফা দিলেন গিরি। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি মহম্মদ হিদায়েতুল্লা কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি পদে বসলেন। লড়াই শুরু হল রেড্ডি এবং গিরির মধ্যে।

ইন্দিরা সরাসরি রেড্ডির বিরোধিতা করলেন না। নীলম সঞ্জীব রেড্ডি যে দিন মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলেন, সে দিন ইন্দিরা তাঁর সঙ্গেই থাকলেন। কিন্তু রেড্ডিকে ভোট দেওয়ার জন্য দলের সাংসদদের উপর ইন্দিরা কোনও হুইপ জারি করলেন না। নিজলিঙ্গাপ্পা বুঝে গিয়েছিলেন, ইন্দিরা গাঁধীর সমর্থন ভি ভি গিরির দিকে যেতে পারে। তাই স্বতন্ত্র পার্টি, ভারতীয় জনসঙ্ঘের মতো বিরোধী দলগুলির প্রতি বিশেষ এক আহ্বান জানালেন তিনি। ওই দলগুলির তরফ থেকে সে বারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছিল সি ডি দেশমুখকে। প্রথম পছন্দের ভোট দেশমুখকে দিয়ে বিরোধীরা দ্বিতীয় পছন্দের ভোট যেন রেড্ডিকে দেন— অনুরোধ করলেন নিজলিঙ্গাপ্পা। কংগ্রেস সভাপতির এই পদক্ষেপই সে দিন অস্ত্র তুলে দিয়েছিল ইন্দিরার হাতে। নিজলিঙ্গাপ্পার এই আহ্বানের তীব্র নিন্দা করলেন ইন্দিরা। তার পর নির্বাচনের আগে দলের সাংসদদের প্রতি আহ্বান জানালেন— বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে ভোট দিন।

১৯৬৯-এর সেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কতটা টানটান উত্তেজনার ছিল, তা বলাই বাহুল্য। ফল ঘোষণা হওয়ার পর দেখা গেল কংগ্রেস মনোনীত নীলম সঞ্জীব রেড্ডি খুব সামান্য ব্যবধানে হেরে গিয়েছেন বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরির কাছে। ইন্দিরার আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেক কংগ্রেস সাংসদ ভোট দিয়েছিলেন গিরিকে। বিভিন্ন বামপন্থী দল এবং ছোটখাটো বিরোধী দলগুলিও সমবেত ভাবে ভোট দিয়েছিল তাঁকে। সেই সুবাদেই জয়ী হয়েছিলেন গিরি।

 

‘মিসাইল ম্যান’ বনাম ‘ঝাঁসির রানি’

১৯৬৯-এর সেই নির্বাচনের মতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই আর কখনওই দেখা যায়নি ভারতের কোনও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। কিন্তু পরবর্তী কালেও বেশ কয়েক বার রাষ্ট্রপতি পদের লড়াই দেশ জুড়ে তুমুল উৎসাহের জন্ম দিয়েছে। তেমনই এক নির্বাচন হল এ পি জে আবদুল কালামের নির্বাচন।

শুধু ক্ষমতাসীন বিজেপি নয়, বিরোধী কংগ্রেসও ছিল কালামের পাশে। —ফাইল চিত্র।

দেশের মহাকাশ কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং পরমাণু কর্মসূচিকে দীর্ঘ দিন নেতৃত্ব দেওয়া বিজ্ঞানী এ পি জে আবদুল কালামকে ২০০২ সালের নির্বাচনে প্রার্থী করেছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন জো়ট এনডিএ। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও কালামকেই সমর্থনের কথা ঘোষণা করে। কিন্তু বামেরা কালামকে সমর্থনে রাজি হয়নি। প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা আজাদ হিন্দ ফৌজের রানি ঝাঁসি বিগ্রেডের কম্যান্ডার লক্ষ্মী সেহগলকে প্রার্থী করে সিপিএম। সমর্থন করে অন্য বাম দলগুলি।

নির্বাচনের অনেক আগেই কালামের বিপুল জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সে নির্বাচনের দুই প্রার্থীই দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। এক দিকে দেশের সামরিক সক্ষমতাকে বহু উঁচুতে তুলে নিয়ে যাওয়া বিজ্ঞানী কালাম। অন্য দিকে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে নামা লক্ষ্মী। সাধারণ জনমত কিন্তু খোলাখুলি ভাবে কারও বিরোধিতাই করতে পারেনি সে বার।

 

অচেনা প্রতিভা

২০০৭ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি হন প্রতিভা পাটিল। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি তথা এনডি-এর প্রার্থী ছিলেন ভৈরোঁ সিংহ শেখাওয়াত। সে লড়াইয়ে এনডিএ-কে অটুট রাখতে পারেনি বিজেপি। সবচেয়ে পুরনো শরিক শিবসেনা ভোট দিয়েছিল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রতিভাকে। কারণ প্রতিভা মরাঠি ছিলেন। কংগ্রেসের সংখ্যাধিক্য এবং এনডিএ-তে ভাঙনের জেরে বেশ বড় ব্যবধানেই শেখাওয়াতকে হারিয়ে সে বার জয়ী হন প্রতিভা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষিত হওয়ার আগে পর্যন্ত দেশের মানুষের কাছে যিনি একদমই অচেনা ছিলেন, সেই প্রতিভা পাটিলকে কেন রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করল কংগ্রেস, প্রশ্ন উঠেছিল তা নিয়ে।

নিজস্বতা নিয়ে নয়, বাইরের অঙ্গুলিহেলনেই পাঁচ বছর রাইসিনায়
কাটিয়ে দিয়েছেন প্রতিভা। বলেন অনেকেই। —ফাইল চিত্র।

দিল্লির রাজনৈতিক মহলে যাঁরা প্রতিভা পাটিলকে চিনতেন, তাঁরা প্রতিভাকে একটিই পরিচয়ে চিনতেন— গাঁধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ। সেই ঘনিষ্ঠতা এতটাই ছিল যে অনেকে বলতেন ১০ জনপথের রান্নাঘরেও অবাধ গতি প্রতিভার। তিনি যে বেশ কয়েক বার সাংসদ পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তিনি যে কিছুটা সময় রাজ্যপাল পদে কাজ করেছিলেন, সে সব মনে থাকত না অনেকেরই। রাজনৈতিক ভাবে এতটা লো-প্রোফাইল যিনি, তিনি হঠাৎ রাষ্ট্রপতি হলেন কী ভাবে? গাঁধী পরিবারের ঘনিষ্ঠতার পুরস্কার কি? প্রশ্নটা এখনও ঘোরাফেরা করে দেশের রাজনৈতিক শিবিরে।

 

প্রণবে প্রতিক্রিয়া

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নির্বাচনকে ঘিরেও কিন্তু টানাপড়েন কম ছিল না। দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ঘোরাফেরা করেছেন যাঁরা, প্রণব মুখোপাধ্যায় অবশ্যই সেই হাতেগোনাদের অন্যতম। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সাংবিধানিক জ্ঞান এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞাও প্রখর। শুধু দেশে নয়, ভারতীয় রাজনীতিকদের মধ্যে যে ক’জন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সবচেয়ে বেশি পরিচিত, প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁদের এক জন। এ হেন পোড় খাওয়া নেতার নাম রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে প্রস্তাবিত হতেই কিন্তু ঘোলাটে হতে শুরু করেছিল রাজনৈতিক স্রোত।

আরও পড়ুন: যে কোনও পরিসরে প্রণব খুঁজে নেন কাজ, থাকেন প্রাসঙ্গিক

প্রথম বিরোধিতা এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিক থেকে। প্রণব মুখোপাধ্যায়কে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে ঘোর আপত্তি ছিল তাঁর। তিনি পাল্টা তিনটি নাম প্রস্তাব করেছিলেন। লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গাঁধীর নাম ছিল মমতার তালিকায়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে রাষ্ট্রপতি করে দেওয়ার প্রস্তাবও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছিলেন। এই তিন জনের মধ্যে কোনও এক জনকে প্রার্থী না করলে তৃণমূলের সমর্থন কংগ্রেস পাবে না, এমন ইঙ্গিত দেওয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস সে সব প্রস্তাব মানেনি।

রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মতো অভিজ্ঞ এবং প্রভাবশালী
রাজনীতিককে সাম্প্রতিক অতীতে দেখা যায়নি। —ফাইল চিত্র।

কংগ্রেসকে বাগে আনতে না পেরে লালুপ্রসাদ, মুলায়ম সিংহ যাদবদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন মমতা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সকলেই প্রবীণ রাজনীতিক প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে যান। একা পড়ে গিয়েছিলেন মমতা। শেষ পর্যন্ত প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় অটল থাকতেও পারেননি। কারণ বাঙালি ভাবাবেগ বিপক্ষে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

প্রণববাবুর বিরুদ্ধে প্রার্থী যিনি ছিলেন, সেই পূর্ণ অ্যাজিটক সাংমাও কিন্তু ছিলেন পোড়খাওয়া রাজনীতিক। এনডিএ মনোনীত প্রার্থী সাংমা পাটিগণিতে অনেক পিছিয়ে ছিলেন প্রণবের চেয়ে। কিন্তু নানা আইনি এবং সাংবিধানিক মারপ্যাঁচে প্রণবকে বিপদে ফেলার চেষ্টা তিনি শেষ দিন পর্যন্ত চালিয়ে যান। দেশের অর্থমন্ত্রী থাকার সুবাদে বেছে বেছে কিছু রাজ্যের জন্য বিপুল আর্থিক বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন প্রণব এবং সেই সব রাজ্যের জনপ্রতিনিধিদের ভোট ‘কিনে’ নিয়েছেন— এমন অভিযোগ তোলা হয়েছিল সাংমা শিবির থেকে। ‘অফিস অফ প্রফিট’ বিতর্ক তুলেও প্রণবকে বিপদে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। ফলে সে নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ অনেকটাই চড়েছিল। তবে সাংমার কোনও প্রয়াসই সফল হয়নি। বড় ব্যবধানেই তিনি হেরেছিলেন।

 

আবার ‘রাবার স্ট্যাম্প’?

২০১৭ সালে এসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মুখোমুখি রামনাথ কোবিন্দ এবং মীরা কুমার। পাটিগণিতে কোবিন্দ অনেকটাই এগিয়ে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচিতিতে মীরা কুমারের চেয়ে যোজন পিছিয়ে তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনডিএ প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষিত হওয়ার আগে ক’জন চিনতেন কোবিন্দকে? সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, রাজনৈতিক রথী-মহারথীদের অনেকেও চিনতেন না কোবিন্দকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অকপটে বলেও দিয়েছিলেন সে কথা। বিরোধীরা সর্বসম্মত ভাবে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর শাসক শিবির জানিয়েছিল, তারাও সর্বসম্মতিই চায়। তা-ই যদি হয়, তা হলে কোবিন্দের মতো অপরিচিত মুখকে কেন তুলে ধরা হল? প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন শিবির।

অবধারিত ভাবে ফিরে এসেছে ২০০৭-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ছায়া। প্রতিভা পাটিলকে সে বার যেমন আচমকা সামনে এনেছিলেন সনিয়া, এ বারও সেই ঢঙেই কোবিন্দকে আনলেন মোদী-শাহ। রামনাথ কোবিন্দও কি তা হলে ‘রাবার স্ট্যাম্প’ রাষ্ট্রপতিই হতে চলেছেন? উত্তরটা সময়ই দেবে। কিন্তু রাজনৈতিক শিবিরের জল্পনা এখন সে রকমই।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন