প্রতিবেশী থেকে দূরের দেশগুলি— বিদেশনীতির প্রশ্নে নানান জটে জড়িয়ে পড়েছে সরকার। বিদেশনীতিকে উজ্জ্বল করতে এখন সূর্যের শরণাপন্ন নরেন্দ্র মোদী! আন্তর্জাতিক সৌরশক্তির মঞ্চ গড়ে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপের ২৩টি রাষ্ট্রের প্রধান এবং ১০টি রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আজ গাঁটছড়া বাঁধল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের সূত্র জানাচ্ছে, এই আন্তর্জাতিক সৌরশক্তি জোট গড়ার পিছনে একসঙ্গে বহু দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সখ্য বাড়ানোর একটি কৌশল রয়েছে সাউথ ব্লকের।

প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০১৫ সালে ভারত-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলনে এই জোট গড়ার কথা প্রথম বলেন। দু’বছর ধরে চলেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে একত্র করার দৌত্য। নয়াদিল্লির আশা, ভবিষ্যতে এটি মহাজোটে পরিণত হবে। এ পর্যন্ত ১২১টি দেশ এই অক্ষে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে। ৯০টি দেশ ইতিমধ্যেই এর ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তিতে সই করেছে।

সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার যত বাড়বে, ততই কমিয়ে আনা যাবে বিশ্বের উষ্ণায়ন। সেই প্রসঙ্গে মোদী এ দিন তুলে ধরেন বেদে বলা সূর্যের মাহাত্ম্য। রাষ্ট্রপতিভবনে সম্মেলনের উদ্বোধন করে বলেন, ‘‘বেদে বলা রয়েছে পৃথিবীর আত্মা হল সূর্য। সূর্যই বাঁচিয়ে রেখেছে আমাদের। জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে, এই গ্রহকে বাঁচাতে সুপ্রাচীন সেই ধারণাকেই ফিরে দেখতে হবে আমাদের।’’

ভারত সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁকে পাশে নিয়েই এ দিন যৌথ ভাবে সম্মেলন পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে সৌরশক্তির জোগানের জন্য ১০টি প্রস্তাব সম্বলিত ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তুলে ধরেন। জানান, ২০২২-এর মধ্যে মধ্যে ভারত ১৭৫ গিগাবাইট সৌরবিদ্যুৎ তৈরি করতে সক্ষম হবে। ২০১৪-র লোকসভা ভোটেই বিজেপি এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্বাচনী ইস্তাহারে।

আশ্চর্য: তাজমহলের সামনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ। তিনি যাওয়ার
কিছু ক্ষণ আগেই তাজের রয়্যাল গেটের উপর থেকে মৌচাক ভেঙে মাটিতে পড়ে।
আতঙ্কে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। রবিবার। ছবি: পিটিআই

আমেরিকার নাম না করে মাকরঁ জানান, কিছু দেশ যখন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন অন্য অনেক রাষ্ট্র চাইছে ইতিবাচক কিছু করতে। মাকরঁ বলেন, ‘‘এটা ভুললে চলবে না, একটি মাত্র বসবাসযোগ্য গ্রহ রয়েছে আমাদের। এবং আমরা সকলে এখানে ভাগাভাগি করে রয়েছি। সবার ভবিষ্যৎ একই সূত্রে গাঁথা বলে একে রক্ষার দায়ও নিতে হবে সকলকে।’’ মাকরঁ-র প্রতিশ্রুতি, উন্নয়নশীল দেশগুলি বিকল্প শক্তি প্রকল্পে ফ্রান্স বাড়তি ৭০০ মিলিয়ন ইউরো দেবে ঋণ এবং অনুদানের মাধ্যমে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিগত সরকার, চিন ও ভারতকে দূষে গত বছর জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরেই আন্তর্জাতিক স্তরে জলবায়ু-রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত। বিকল্প শক্তির সন্ধান করে উন্নয়নশীল দেশগুলির নেতৃত্ব দিতে উদ্যোগী হয়েছেন মোদী। তবে জলবায়ু চুক্তি থেকে ট্রাম্প সরে দাঁড়ানোয় বন্ধ হয়েছে মার্কিন সাহায্য। তাতে সৌরপ্রকল্পগুলি কিছুটা চাপে পড়েছে। এমন প্রকল্পে কী ভাবে পুঁজি আসবে, তার একটি রূপরেখাও তৈরি হয়েছে এ দিনের সম্মেলনে। আয়োজক দেশ ভারত ও সৌরশক্তি জোট যে যৌথ বিবৃতিতে সই করেছে, তাতে আমজনতার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ, প্রযুক্তি বিনিময়, সহজ ঋণের মতো বেশ কিছু পথের কথা বলা হয়েছে।