রাহুল গাঁধী–সহ বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, পুলওয়ামায় হামলার পরও নৈনিতালের জিম করবেট উদ্যানে বাঘ নিয়ে তথ্যচিত্রের শুটিঙে ব্যস্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি, এরপরও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জনসভায় বক্তৃতাও দিয়েছেন, কিন্তু নিহত জওয়ানদের কথা উল্লেখ করেননি। 

এই ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রথমবার এই নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেখানেও বললেন না, ঠিক কোন সময়ে তিনি পুলওয়ামার খবর পেয়েছিলেন। জনসভায় কেন ওই ঘটনা উল্লেখ করেননি, তার অবশ্য যুক্তি দিলেন। 

প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামার ঘটনার সময় আপনি কোথায় ছিলেন? কখন শুনলেন এই ঘটনার কথা?  প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘‘আমার সব কর্মসূচিই পূর্ব নির্ধারিত থাকে। সে দিন আমি উত্তরাখণ্ডে ছিলাম। পরিবেশ আর পর্যটনে আমি গুরুত্ব দিই। গোটা দিনের কর্মসূচি ছিল। যখন পুলওয়ামার ঘটনা হল, তখন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। আমার একটি বড় জনসভাও ছিল, বেলা তিনটের সময়ে। কিন্তু সেখানে পৌঁছনো মুশকিল ছিল। এরই মধ্যে খবর এল। সঠিক সময়টি…,’’ বলে থেমে গেলেন মোদী। বললেন, ‘‘ঠিক করলাম, মোবাইল ফোনেই সভায় বক্তৃতা করব। কিন্তু এত বড় সভায় এই ঘটনা আলোচনা করা উচিত নয়।’’  প্রসঙ্গত, সরকারের নানা ‘সূত্র’ মারফত আগে জানানো হচ্ছিল, প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। দেরিতে জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নাকি বেজায় চটেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের উপর। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ সালে তাঁর বিহারের সভার নজির টেনে আনেন। যেখানে সভার মধ্যেই বিস্ফোরণ হয়। কিন্তু সেখানে তিনি ‘ভারসাম্য’ বজায় রেখে সকলকে শান্ত রাখেন। তা না হলে হুলস্থূল বেধে যেত। মোদীর কথায়, ‘‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। কেউ যদি এ নিয়ে রাজনীতি করেন, তা হলে তাঁরা অবোধ।’’ দিল্লিতে কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, ‘‘ঠিক এই কথাটিই আমরা বলছিলাম। প্রধানমন্ত্রী পুলওয়ামার ঘটনার পরেও শুটিং করছিলেন। রাহুল গাঁধীর কানেও আমরা মোদীর আজকের কথাটি তুলছি। পরের আক্রমণের কৌশল তিনিই স্থির করবেন।’’