লোকসভা নির্বাচনে গাঁধী পরিবারের গড় অমেঠী হাতছাড়া হয়েছে কংগ্রেসের। তার পর মাস দেড়েক কেটে গিয়েছে। এত দিনে ফের সেখানে পা রাখলেন রাহুল গাঁধী। বুধবার দুপুরে অমেঠী পৌঁছন রাহুল। সেখানে পা রেখেই বলেন, ‘‘মনে হচ্ছে ঘরে ফিরলাম।’’

এ দিন অমেঠী পৌঁছে প্রথমেই গৌরীগঞ্জ এবং তিলোই বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মাতা প্রসাদ বৈশের সঙ্গে দেখা করেন রাহুল। সম্প্রতি মাতা প্রসাদের এক আত্মীয়বিয়োগ হয়েছে। রাহুল তাঁকে সমবেদনা জানান। পরে কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে পর্যালোচনা মিটিংয়ে যোগ দেন।

সলোন, অমেঠী, গৌরীগঞ্জ, জগদীশপুর এবং তিলোই— এই পাঁচ বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় সভাপতিদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন রাহুল। সেখানে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘ওয়েনাডের সাংসদ বলে এখানে আসা বন্ধ করে দেব, এমনটা ভেবে বসবেন না যেন। বার বার এখানে আসব আমি।’’

আরও পড়ুন: হিন্দু মরুক! দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক, বিজেপির দাবি ভুয়ো ভিডিয়ো​

কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবিত করতে দলীয় কর্মীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে বলেন রাহুল। তাঁর কথায়, ‘‘অমেঠির সঙ্গে আমার সম্পর্ক ব্যক্তিগত। জয়-পরাজয় রাজনীতির অংশ। কিন্তু কখনও অমেঠী ছেড়ে যাব না আমি। বিপদেআপদে সবসময় আপনাদের পাশে রয়েছি।’’

নির্বাচনের পর রাহুল গাঁধীর প্রথম অমেঠী সফরে সব মিলিয়ে ১২০০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে কংগ্রেস সূত্রে খবর। কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া রাহুলকে দেখতে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ হাজির হয়েছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর। তাঁদের নিরাশ করেননি রাজীব তনয়। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক সেরেই আবদার মেনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ছবি তুলতে যান তিনি। পরে সেই ছবি টুইট করে রাহুল লেখেন, ‘অমেঠীতে এসে খুব ভাল লাগছে। মনে হচ্ছে ঘরে ফিরলাম।’

এক ঝলক রাহুলের দেখা পেতে এ দিন ভিড়ে শামিল হয়েছিলেন এলাকার প্রাক্তন গ্রামপ্রধান গঙ্গা প্রসাদ। তিনি বলেন, ‘‘অমেঠীতে কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতে হবে দলের নেতাদের। গ্রামে ঘুরে ঘুরে দলের যে কর্মীরা কাজ করছেন, তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’’ গঙ্গারাম আরও বলেন, ‘‘২০১৪-য় হেরে গেলেও নিয়মিত অমেঠীতে আসতেন স্মৃতি ইরানি। জেতার পরেও ইতিমধ্যে তিন বার ঘুরে গিয়েছেন।’’

আরও পড়ুন: ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ কাশ্মীরে, ভিডিয়ো বার্তায় হুমকি দিল আলকায়দা প্রধান​

২০১৪-য় রাহুল গাঁধীর কাছে পরাজিত হলেও, এ বছর ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে রাহুলকে পরাজিত করেন বিজেপির স্মৃতি ইরানি। সেই ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি কংগ্রেস।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।