তদন্তকারীদের আতসকাচের নীচে এ বার তিনিই শুধু নন, জেরার জন্য ডাকা হয়েছে তাঁর ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মাকেও। এই ঘটনাতেই ক্ষুব্ধ রবার্ট বঢরা নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ আনলেন। বললেন, ‘‘সঙ্কট কেটে যাবে। ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।’’

রাজস্থানের বিকানেরে জমি কেনাবেচা নিয়ে দুর্নীতি মামলায় আজ রবার্ট ও তাঁর মা মৌরীন বঢরাকে জেরা করেছে ইডি। বিকানেরে ভূমি দফতরের এক আধিকারিক অভিযোগ এনেছেন, পাকিস্তান সীমান্তের পাশে বিকানেরের ৩৪টি গ্রামের জমি সেনারই ব্যবহার করার কথা। কিন্তু সেখানেই বঢরার সংস্থা ‘স্কাইলাইট হসপিটালিটি’ জাল নথি দেখিয়ে কম দামে জমি কিনেছে। পরে তা বেশি দামে বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতেই রবার্টকে এ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ইডির আধিকারিকেরা। তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে যাতে কড়া ব্যবস্থা না নিতে পারে, সে জন্য রাজস্থান হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রবার্ট। 

কিন্তু গত মাসেই আদালত তাঁকে ইডির মুখোমুখি হতে নির্দেশ দিয়েছিল। মঙ্গলবার জয়পুরে রবার্টকে ইডির দফতরে পৌঁছে দিয়ে যান তাঁর স্ত্রী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিকা প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা। দিন কয়েক আগেও অন্য একটি মামলায় দিল্লিতে ইডির দফতরে ররার্টকে পৌঁছে দিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন প্রিয়ঙ্কা।

বিকানেরে জেরা পর্বের মধ্যেই ফেসবুকে আজ একটি আবেগঘন পোস্ট করেন রবার্ট। তিনি লিখেছেন, ‘‘জয়পুরে আমার ৭৫ বছর বয়সি মা’কে সঙ্গে নিয়ে ইডির দফতরে বসে রয়েছি। এক জন প্রবীণ নাগরিককে হেনস্থা করতে এই সরকার কতটা নীচে নামতে পারে, সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না।’’ তাঁর বাবা, ভাই বোন— পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর পরে তাঁর মায়ের ভেঙে পড়া মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেছেন রবার্ট। জানিয়েছেন, বিপর্যয়ের মধ্যেই শুধু সময় কাটানোর জন্য মা’কে তিনি দফতরে নিয়ে যেতেন। রবার্টের মন্তব্য, ‘‘আমার দফতরে সময়ে কাটানোর জন্যই মা এখন অভিযুক্ত, জেরা করতে  তাঁকে ডাকা হয়েছে।’’ 

আজ প্রায় নয় ঘণ্টা জেরার পরেও আগামিকাল রবার্টকে ফের ডেকেছে ইডি। প্রিয়ঙ্কার স্বামী অবশ্য দাবি করেছেন, সঙ্কট কেটে যাবে। এই পরিস্থিতি তাঁকে শক্তিশালী করে তুলবে।