নতুন শিক্ষানীতির খসড়া নিয়ে হইচই থামেনি। এরই মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার গলদ খুঁজে সংস্কারের দাবিতে নামল আরএসএস। ইংরেজির উপর ‘অযৌক্তিক’ নির্ভরতা কমানো থেকে বিদ্যালয়ে বৈদিক গণিত চালু করার মতো প্রস্তাব নিয়ে দিল্লিতে আসছেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। ‘জ্ঞান উৎসব’ নামে এই অনুষ্ঠানে মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক যেমন থাকবেন, তেমনই থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ আর যোগগুরু রামদেবও।

আরএসএস সমর্থিত সংগঠন ‘শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস’ অনেক বছর ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল বদলের পক্ষে সওয়াল করে যাচ্ছে। এই সংগঠনই এক সময় বলেছিল, জাতীয়তাবাদী মনোভাবের সঙ্গে রবীন্দ্রচেতনা খাপ খায় না। তাই ইংরেজি পাঠ্যপুস্তক থেকে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কিত অংশ বাদ দেওয়া উচিত। এই সংগঠনের উদ্যোগেই সপ্তাহান্তে দু’দিনের বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে দিল্লিতে। যেখানে শিক্ষার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

মোহন ভাগবতের উপস্থিতিতে এই সম্মেলনে আলোচনা হবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির কাঠামো কী ভাবে পরিবর্তন দরকার। তাতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন ইংরেজির উপর ‘অযৌক্তিক’ নির্ভরতা রয়েছে বলে সংগঠন মনে করে, তেমনই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরে পরীক্ষা নেওয়ার ধরনেও গলদ আছে বলে তাদের দাবি।

সংগঠনের সচিব অতুল কোঠারির মতে, ‘‘সরকার যে শিক্ষা নীতির খসড়া তৈরি করেছে, তাতে মতামত দেওয়ার সীমা শেষ হচ্ছে কালই। সরকার খসড়াতে সংগঠনের মত অনুযায়ী অনেক কিছু রেখেছে, আরও অনেক করা বাকি। সে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে সরকারকে।’’ যেমন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব, পাঠ্যক্রমে বৈদিক গণিত চালু করা হোক। এর ফলে ক্যালকুলেটরের উপর নির্ভরতা কমবে বলে তাদের দাবি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা দীননাথ বাত্রা আগেই ভারতের চিরাচরিত জ্ঞান পদ্ধতি, বেদ পঠনের উপরে জোর দিয়েছিলেন। সংগঠন মনে করছে, পুরনো পদ্ধতিতে পড়ুয়াদের মগজের বিকাশ হয়। যদিও সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিরও মেলবন্ধন হওয়া উচিত।