দুপুর ঠিক তিনটেয় ব্রাজিলের উদ্দেশে রওনা দিল প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান। তার আধ ঘণ্টা আগেই তাঁর বাসভবনে শেষ হয়েছে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক। যেখানে মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসনে সিলমোহর বসিয়েছে তাঁর সরকার। মন্ত্রিসভার ওই বৈঠক শুরুর ঘণ্টা তিনেক আগেই মুম্বইয়ে শরদ পওয়ারের দল এনসিপি রাজ্যপালকে জানিয়ে দিয়েছে, সরকার গড়তে তাদের আরও সময় চাই। সে সময় দিতে রাজি হননি রাজ্যপাল।

প্রশ্নের শুরু এখান থেকেই। মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার ব্যাপারে আগ্রহ ও ক্ষমতার কথা রাজ্যপালকে জানানোর জন্য মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত সময় ছিল পওয়ারের হাতে। সেই সময়সীমা ফুরনোর ৯ ঘণ্টা আগেই কেন সময় চেয়ে নিল তাঁর দল? তা-ও প্রধানমন্ত্রী ব্রাজিল রওনা হওয়ার আগেই? যার ফলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির ব্যাপারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনটিও সম্ভব হয়ে গেল! আর যে রাজ্যপাল গতকাল রাতেই শিবসেনার আরও সময় চেয়ে করা আর্জি খারিজ করেছেন, তখন আজ কেন তাঁর কাছে সেই যুক্তিই দিলেন পওয়ার? বিশেষ করে যখন তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য কংগ্রেসের তিন শীর্ষ নেতাকে দিল্লি থেকে মুম্বই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সনিয়া গাঁধী? 

গত কাল থেকে কংগ্রেস বলে আসছে, তাদের জন্য মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে কোনও দেরি হয়নি। বরং শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে দর কষাকষি করছিলেন শরদ পওয়ারই। আর শুধু আজ নয়, মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই পওয়ারের হাতে সে রাজ্যের কৌশলের ভার ছেড়ে রেখেছিলেন সনিয়া। শিবসেনাকে চিঠি দিতে দেরির জন্য আজ এনসিপি-র অজিত পওয়ার তাদের দিকে আঙুল তুললেও কংগ্রেস বলছে, শরদ পওয়ারই গত কাল রাতে সনিয়াকে সমর্থনের চিঠি দিতে বারণ করেন। পওয়ার নিজেও সমর্থনের চিঠি উদ্ধব ঠাকরেকে দেননি। সে কথা দশ জনপথ থেকে বেরিয়ে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতারা। 

প্রশ্ন উঠছে এখানেই। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহকে কি কোনও ভাবে সুবিধা করে দিচ্ছেন ‘মরাঠা স্ট্রংম্যান’ শরদ পওয়ার? 

মহারাষ্ট্রে অবশ্য অনেকে বলছেন, কোথায়? বরং অমিত শাহকে তো প্যাঁচেই ফেলেছেন পওয়ার। রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পরে এখনও এনসিপি-কংগ্রেস-শিবসেনা হাত মিলিয়ে সরকার গড়তে পারে। বিজেপি শিবিরের অনেকের মত আবার পুরোপুরি অন্য। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি সরকার গড়তে মানা করে দেওয়ার পরে কী কী ঘটল? যে উদ্ধব ঠাকরে শুধু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বাসনায় বিজেপির সঙ্গ ছাড়লেন, তাঁর সেই পদ পাওয়াও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। সৌজন্যে পওয়ার। আর সনিয়া গাঁধীকেও অনেকটা সেনা-মুখী করে ফেলা গেল। কংগ্রেসের আদর্শের বিপরীত ধারার সঙ্গে সরকার গড়া নিয়ে আলোচনায় বসতে হল। যে কারণে বিজেপি নেতারা এখন প্রকাশ্যেই কটাক্ষ করছেন, ‘‘শিবসেনা এখন আর বালসাহেবের সেনা নয়, সনিয়া-সেনা!’’ 

বিপাকে পড়ে আজ নিজের দলের বিধায়কদের বৈঠকে উদ্ধব ঠাকরেকে ফের বলতে হল, যে দলই তাঁদের দাবি মানবে, তাকে সমর্থন করবে শিবসেনা। উদ্ধব বুঝিয়ে দেন, বিজেপি তাদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ রাখছে। দাবি মানলে বিজেপির সঙ্গেও গাঁটছড়া বাঁধতে পারে শিবসেনা। রাতে বিজেপির নারায়ণ রাণেও বলেন, সরকার গড়তে সব বিকল্প খোলা। দেবেন্দ্র ফডণবীস এই লক্ষ্যে চেষ্টা করছেন। বিজেপি বলছে, এক সময় এনডিএ ছেড়ে নীতীশ কুমারকে ফিরে আসতে হয়েছে। জোট ছেড়ে অবস্থা টের পাচ্ছেন চন্দ্রবাবু নায়ডুও। এ বারে পাবেন উদ্ধব। কংগ্রেস-এনসিপির সঙ্গে মিলে সরকার গড়লেও তা স্থায়ী হবে না। শিবসেনার বিধায়কেরা অস্থির হয়ে উঠেছেন। অনেকে তো বিজেপিতেও আসতে চান। 

সব মিলিয়ে বিজেপির কৌশল রূপায়ণে কি কিছুটা সাহায্যই করলেন শরদ পওয়ার? কেন?