দেশে গণপ্রহারের ঘটনা বেড়ে চলায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খোলা চিঠি দেওয়ার ‘অপরাধে’ রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে আদুর গোপালকৃষ্ণন, অপর্ণা সেন, রামচন্দ্র গুহ-সহ ৪৯ জন বিশিষ্ট নাগরিকের বিরুদ্ধে। বিহারের মুজফ্ফরপুরে দায়ের হওয়া ওই অভিযোগের কড়া বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী মোদীকেই এ বার চিঠি দিলেন তিরুঅনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। শিক্ষা ও সংস্কৃতি জগৎ থেকে রোমিলা থাপার, নাসিরুদ্দিন শাহ, অশোক বাজপেয়ী-সহ অন্তত ১৮০ জনও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা সাজানোর বিরোধিতায় খোলা চিঠি দিয়েছেন।

সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তারুর চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছেন, ‘যাঁরা আপনার সমালোচনা করেন বা আপনার মতের বিরুদ্ধ মত পোষণ করেন, তাঁদের শত্রু বা দেশ-বিরোধী মনে করার কারণ নেই। সমালোচনা ছাড়া কোনও উন্নয়নই হতে পারে না। যে সব সমস্যা দেশের নাগরিকদের পীড়িত করে, সেগুলির প্রতি আমরা যদি চোখ বুজে থাকি, তা হলে আধিপত্যবাদের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু দেশের সংবিধানে স্বীকৃত মূল্যবোধ আধিপত্যবাদের কথা বলে না’। ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে সকলে ভয় গুটিয়ে গিয়ে মুখ বন্ধ করে ফেললে ইতিহাসের গতিই অন্য রকম হতো বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারুর প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এটাই কি নতুন ভারত? যেখানে নাগরিকেরা ‘মন কি বাত’ বলতে চাইলে তাঁদের ‘মৌন কি বাত’-এর দিকে ঠেলে দেওয়া হবে? এমন এফআইআর দায়েরের তীব্র বিরোধিতা করছি’। প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন কংগ্রেসের আর এক সাংসদ, কর্নাটকের রাজীব গৌড়াও।

পরে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত এই প্রবনতার বিরুদ্ধে মুখ খোলা। ধর্মের নামেই হোক বা শিশু চুরির গুজবে, গণপ্রহার সকলের জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা কেমন দেশ, যেখানে উদ্বেগ জানালে এফআইআর হবে! সাংবাদিকেরা কিছু ফাঁস করলে বা সত্য উদঘাটন করলে গ্রেফতার হবেন!’’ একই সুরে থাপার, নাসিরুদ্দিনেরাও বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দেওয়া কী ভাবে রাষ্ট্রদ্রোহ হতে পারে? নাকি আদালতকে অপব্যবহার করে এমন হেনস্থা আসলে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করারই কৌশল’?

থাপারেরা তাঁদের চিঠিতে বলেছেন, ‘যে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে, তাঁদের চিঠির সঙ্গে সহমত হয়েই সংস্কৃতি, শিক্ষা ও আইন জগতের আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসতে অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রতি দিন আমাদের থেকে আরও বেশি করে মানুষ সরব হবেন’।