ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নয়া ‘অবতার’ হয়ে উঠছেন নভজ্যোৎ সিংহ সিধু। মাত্র কয়েক মাস আগেও যে পিচের ধারেকাছে তাঁকে দেখা যায়নি, এখন সেখানেই ব্যাট হাতে নেমেছেন তিনি। আপাতত এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক শিবির।

বিতর্কের সূত্রপাত গত মাসে পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির থেকে সে দেশের সেনাপ্রধানকে সিধুর জড়িয়ে ধরা নিয়ে। কংগ্রেস, বিজেপি নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতাদের ভৎর্সনার শিকার হন পঞ্জাবের এই মন্ত্রী। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বিষয়টি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রক বা কোনও সরকারি স্তর থেকে রা কাড়া হয়নি। সে সময় প্রশ্ন উঠেছিল, সিধুকে কাজে লাগিয়ে ভারত সরকার ইমরানের নতুন সরকারের সঙ্গে আলগোছে একটি সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে কিনা। সূত্রের খবর, বিদেশ মন্ত্রকের ছাড়পত্র নিয়েই পাকিস্তানে গিয়েছিলেন সিধু।

আজ এই সার্বিক বিতর্কের মধ্যে সিধু জানিয়েছেন, তাঁর বন্ধু ইমরান খান নাকি তাঁকে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে ইমরান শান্তি চান— এটাই তিনি নাকি লিখেছেন সেই বার্তায়। সিধুর কথায়, ‘‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী পাকিস্তান থেকে ফেরার পর কার্গিল যুদ্ধ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তান থেকে ফেরার পর পঠানকোট আক্রমণ হয়েছিল। কিন্তু সিধু ফেরার পর একটু চিৎকার চেঁচামেচি হল! তারপর আমার বন্ধুর বার্তা এল। যেখানে তিনি বলছেন, আমরা শান্তি চাই। তোমরা এক পা এগোলে, আমরা দু পা এগোবো।’’

ইমরানের এই বার্তা নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। কিন্তু কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, পাকিস্তানের নতুন সরকার চাইছে, যে ভাবেই হোক ভারতকে আলোচনার রাস্তায় ফিরিয়ে এনে কাশ্মীরের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার টেবিলে তুলতে। দু’মাস পরে ইসলামাবাদে সার্ক সম্মেলন হওয়ার কথা। ইমরান চেষ্টা করছেন, ভারতকে রাজি করিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনটি সফল করতে। মোদীকে আমন্ত্রণ করার জন্য তিনি বিশেষ দূতও পাঠাতে পারেন দিল্লিতে। পাশাপাশি পুরনো ক্রিকেট-বন্ধু নভজ্যোৎ সিধুকে ইমরান কাজে লাগাতে চাইছেন কিনা—সেই প্রশ্নটিও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে সংশ্লিষ্ট শিবিরে।