এক দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি অন্য দিকে সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ প্রসার ভারতীর চেয়ারম্যান এ সূর্যপ্রকাশ। দু’জনের সংঘাতে নজিরবিহীন সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এবং তার অধীনে থাকা প্রসার ভারতী। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।

দুই শিবিরের ঝামেলায় গত দু’মাস ধরে প্রসার ভারতীর কর্মীদের বেতন বন্ধ রেখেছে স্মৃতি ইরানির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। প্রসার ভারতীর আপৎকালীন তহবিল থেকে আপাতত কর্মীদের বেতন মেটানো হলেও সংস্থার বক্তব্য, অবিলম্বে টাকা না এলে এপ্রিল থেকে বেতন দেওয়া যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে স্বশাসনের অধিকারের প্রশ্ন তুলে এ বার নিজের মন্ত্রকের বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়িয়েছে প্রসার ভারতী। সংস্থার শীর্ষ কর্তারা বলছেন, সংসদে আইন করে প্রসার ভারতী গঠন করা হয়েছে। তাই সংসদই ঠিক করুক প্রসার ভারতীর ক্ষমতার রূপরেখা কী হবে।

দুই শিবিরের বিতর্কের শুরু গত ডিসেম্বরে। সূত্রের খবর, সূর্যপ্রকাশের সঙ্গে তিনটি বিষয়ে বিরোধ বাধে স্মৃতির। প্রথমত, চুক্তিতে থাকা বেশ কিছু কর্মীকে ছাঁটাই করার জন্য নির্দেশ দেয় মন্ত্রক। স্বশাসনের অধিকারের হস্তক্ষেপ বলে সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয় প্রসার ভারতী।

দ্বিতীয়ত— প্রসার ভারতীর দু’টি শীর্ষ পদে নিয়োগের জন্য দুই সাংবাদিকদের নাম পাঠায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। সেই দুই নাম বাতিল করে প্রসার ভারতী জানায়, ওই সাংবাদিকদের অপ্রয়োজনীয় ভাবে অতিরিক্ত বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালার অভিযোগ, ‘‘ওই সাংবাদিকদের একজন আবার স্মৃতি ইরানির অঘোষিত মিডিয়া পরামর্শদাতা। তাই কি বর্ধিত বেতনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’’ তৃতীয়ত— গোয়া চলচ্চিত্র উৎসব সম্প্রসারণের দায়িত্ব একটি বেসরকারি সংস্থাকে দেয় মন্ত্রক। খরচ হয় ২.৯২ কোটি টাকা। সেই বিল মেটাতে আপত্তি জানিয়ে প্রসার ভারতী জানায়, সংস্থার নিজেদেরই যথেষ্ট দক্ষ কর্মী ও প্রযুক্তি রয়েছে। বাইরে থেকে পয়সা দিয়ে সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া মানে সরকারি অর্থের অপচয়।

অভিযোগ, মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষুব্ধ স্মৃতির মন্ত্রক ডিসেম্বরের পর থেকেই প্রসার ভারতীকে অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেয়। সংঘাতের প্রকৃত কারণ নিয়ে সম্প্রতি সংস্থার সর্ব্বোচ্চ স্তর থেকে সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলায় অস্বস্তিতে স্মৃতি ইরানি শিবির। পাল্টা যুক্তিতে গত রাতে মন্ত্রক জানায়, যে সমস্ত স্বশাসিত সংস্থাকে অর্থ সাহায্য দেওয়া হয়, তাদের সঙ্গে মন্ত্রকের একটি সমঝোতাপত্র বা মউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু প্রসার ভারতীর সঙ্গে তা না হওয়ায় ওই অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে, আর্থিক বছরের একেবারে শেষে এসে এমন চুক্তির কথা মনে হল মন্ত্রকের? বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি চেয়ে এ বার তাই সংসদের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সূর্যপ্রকাশ।