অসমের খসড়া নাগরিক পঞ্জিতে (এনআরসি) অজস্র ভুলের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত এনআরসি প্রকাশের মেয়াদ আরও বাড়ানোর দাবি তুললেন সলিসিটার-জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর বক্তব্য, ভারতকে বিশ্বের ‘উদ্বাস্তুদের রাজধানী’ হতে পারে না। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের তরফে সওয়াল করতে গিয়ে মেহতা অভিযোগ করেন, বহু ভারতীয়ের নাম বাদ গিয়েছে, পাশাপাশি বহু অনুপ্রবেশকারীর নাম খসড়ায় ঢুকে পড়েছে। তাঁর আঙুল এনআরসি সেবাকেন্দ্রের স্থানীয় আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে। 

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ও বিচারপতি আর এফ নরিম্যানের ডিভিশন বেঞ্চের কাছে তিনি দাবি করেন, অসমের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে খসড়ার ২০ শতাংশ নমুনা যাচাই করা হোক। অন্য জেলাগুলিতে অন্তত ১০ শতাংশ যাচাই করতে হবে। মেহতার দাবি, এই কাজ রাজ্যে সরকারের প্রথম শ্রেণির আধিকারিকদের দিয়ে করাতে হবে। এক এলাকার নমুনা যাচাই অন্য এলাকায় করতে হবে। তা হলে তালিকায় অন্তর্ভূক্তি বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাব এড়ানো সম্ভব। 

মেহতার বক্তব্য, নির্ভুল এনআরসি তৈরি করতে গিয়ে তাড়াহুড়ো না করে মেয়াদ বাড়ানো হোক। উল্লেখ্য, ৩১ জুলাই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মেয়াদ বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আজ রাজ্যসভাতেও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায় বলেন, ‘‘ত্রুটিমুক্ত এনআরসির স্বার্থে আরও সময় নিয়ে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হোক— রাষ্ট্রপতিও এমনটাই চান।’’ মনে করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি নাম করে রাজ্যসভায় মন্ত্রীর এই বক্তব্য পরোক্ষে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ‘বার্তা’ পৌঁছে দেওয়া।

প্রধান বিচারপতি এনআরসি কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলার কাছে পুনর্মূল্যায়ণের প্রয়োজন আছে কি না, তা জানতে চান? জানতে চান বন্যা পরিস্থিতির কথাও। হাজেলা জানান, সুপ্রিম কোর্ট ১০ শতাংশ নমুনা পুনর্মূল্যায়ণের নির্দেশ দিলেও এনআরসি দফতর ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ লক্ষ বা ২৭ শতাংশ পুনর্মূল্যায়ণ সেরে ফেলেছে। কিন্তু বন্যা ও অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ের জন্য চূড়ান্ত এনআরসি প্রকাশের দিন আরও মাস খানেক পিছোলে ভাল হয়। বেঞ্চ এ নিয়ে ২৩ জুলাই সিদ্ধান্ত নেবে।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।