বিজেপি-আরএসএসের কর্মীদের মতাদর্শে দীক্ষিত করার জন্য যেমন প্রচারক নিয়োগ করা হয়, তেমনই কংগ্রেসের কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য রাজ্যে রাজ্যে ‘প্রেরক’ নিয়োগ করার প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু শীর্ষ নেতাদের আপত্তিতে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিলেন। তার বদলে কংগ্রেসের নিজস্ব কায়দায় আঞ্চলিক স্তরে প্রাথমিক ভাবে ২০০ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হবে। লক্ষ্য, বিজেপির প্রচারের মোকাবিলা করা।

 তবে বিজেপির মোকাবিলা করার আগে কংগ্রেসের কর্মীসংখ্যা বাড়ানো দরকার বলে সনিয়ার মত। এআইসিসি-র নেতা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কর্মীদের উপর নজর দিন। সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর কাজে মন দিন।

গত কাল এআইসিসি-র নেতা, প্রদেশ সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকের পর পাঁচ কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আজ বৈঠক করেছেন সনিয়া। সেখানে নির্দেশ দেন, রাজ্যের মন্ত্রীদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিয়ম করে প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে বসতে হবে। সেখানে বসে তাঁরা সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনবেন। মুখ্যমন্ত্রীরা জানান, বিজেপি নিয়মিত ভাবে সরকারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজে বাধা তৈরির চেষ্টা করছে। সনিয়া বলেন, এই বাধা পেরিয়ে কংগ্রেস যদি পঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, রাজস্থান, পুদুচেরিতে বিকল্প সুশাসনের মডেল খাড়া করতে পারে, সাধারণ মানুষের কল্যাণে নীতি আনতে পারে, তা হলে ‘জনবিরোধী’ বিজেপি সরকারের মোকাবিলা করা সহজ হবে।

কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা এখন দু’কোটির মতো।  কাল এআইসিসি সদর দফতরে বৈঠকে ঠিক হয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে সদস্য সংখ্যা পাঁচ কোটিতে নিয়ে যেতে হবে। ওই বৈঠকেই কংগ্রেস নেতা মুকুল ওয়াসনিক জানান, প্রশিক্ষণের ভারপ্রাপ্ত এআইসিসি নেতা সচিন রাও প্রেরক নিয়োগের কথা বলেছেন, অথচ এর সঙ্গে বিজেপি-আরএসএসের প্রচারক শব্দের মিল রয়েছে। সনিয়া তাঁর আপত্তি মেনে নিয়ে বলেন, এতদিন যে ট্রেনিং-কো-অর্ডিনেটরদের ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা-ই চলবে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে ২০০ জন থেকে শুরু করে প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হবে।

আজ সকালে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন সনিয়া। সেখানে এনআরসি নিয়ে আলোচনায় ঠিক হয়, কংগ্রেস আমজনতার সমস্যা, প্রকৃত নাগরিকদের উদ্বেগ তুলে ধরবে। আলোচনা হয় নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিল নিয়েও।