রাত পোহালে দুই রাজ্যে ভোটের ফল যাই হোক, দল গোছাতে পুরোদমে সক্রিয় হলেন সনিয়া গাঁধী। তাতে দিল্লি কংগ্রেসে বেসুরো গাওয়া পাঁচ নেতাকে নোটিস ধরানো হল। প্রদেশ সভাপতি বাদে গুজরাত কংগ্রেসের প্রদেশ এগজিকিউটিভ কমিটি ভেঙে দেওয়া হল। যাবতীয় বিষয়ে দলের অবস্থান ঠিক করার জন্য একটি ‘থিঙ্কট্যাঙ্ক’ও গড়লেন সভানেত্রী। সেখানে প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরাকে রাখা হয়নি। তবে প্রবীণ-নবীনে সামঞ্জস্য রেখে আছেন রাহুল গাঁধী-আহমেদ পটেলরা। 

আর্থিক অবস্থা নিয়ে দেশ জুড়ে যে প্রতিবাদ চলতি মাসে করার কথা ছিল, স্থির হয়েছে, সেটি নভেম্বরের গোড়ায় হবে। পাশাপাশি অনেক দিন ধরেই নানা বিষয়ে দলের নানান নেতা নানা সুরে কথা বলছেন। তাতে রাশ টেনে ধরতে সনিয়া ১৭ জনের একটি কমিটি গড়লেন। তাঁর নেতৃত্বে সেই কমিটিতে আহমেদ পটেল, গুলাম নবি আজাদ, মল্লিকার্জুন খড়্গে, আনন্দ শর্মা, কপিল সিব্বলের মতো প্রবীণরা আছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, এ কে অ্যান্টনিও আছেন। সনিয়া শামিল করেছেন গত কয়েক দিন ধরে ফের ছায়াসঙ্গী হয়ে ঘুরতে থাকা অম্বিকা সোনিকেও। কিন্তু পাশাপাশি সনিয়া সুকৌশলে রাহুলকে যেমন রেখেছেন, তেমনই রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা, রাজীব সাতব, সুস্মিতা দেবের মতো তাঁর টিমের সদস্যরাও রয়েছেন। আছেন জয়রাম রমেশ, অধীররঞ্জন চৌধুরী এবং সংগঠনের দায়িত্বে থাকা নেতা কে সি বেণুগোপালও। 

স্থির হয়েছে, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানা ভোটের ফল প্রকাশের একদিন পর, শুক্রবার সকালে এই নতুন কমিটির প্রথম বৈঠক হবে। দলের সূত্রের মতে, অর্থনীতি, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণ, অযোধ্যা মামলার রায়, জাতীয় নাগরিকপঞ্জির মতো অনেক বিষয়ে দলের অবস্থান স্থির করার রয়েছে। নাগরিকপঞ্জি নিয়ে একটি পৃথক কমিটি তৈরি করেছেন সনিয়া, যার বৈঠক শুক্রবার বিকেলে হবে। কে সি বেণুগোপাল জানান, আর্থিক ঝিমুনি নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভোটের জন্য পিছিয়ে যায়। সেটি হবে ৫-১৫ নভেম্বর। 

মতিলাল ভোরার নেতৃত্বে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকও আজ হয়। স্থির হয়েছে, কিরণ ওয়ালিয়া, রমাকান্ত গোস্বামী-সহ দিল্লি কংগ্রেসের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ তাঁদের নোটিস ধরানো হয়েছে। কোপ পড়েছে গুজরাত প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতেও। দল বলছে, ভোটের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন ‘ম্যাডাম’। কাল ভোটের ফল যাই হোক, এ বারে আর চুপ করে বসে থাকা হবে না। কংগ্রেস নেতারা বুঝতে পারছেন, গোটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাহুলকে ফিরিয়ে আনার মঞ্চই তৈরি করছেন সনিয়া। যে রাহুল ইস্তফা দেওয়ার পর কোনও বৈঠকে উপস্থিত থাকেননি, তাঁকে শামিল করা হচ্ছে আহমেদ পটেলদের সঙ্গে। প্রচারে মুখ করা হয়েছে রাহুলকেই। কমিটিতে প্রিয়ঙ্কাকেও রাখা হয়নি। শুক্রবার দশ জনপথে প্রথম বৈঠকে হাজির হবেন রাহুল? দেখার সেটাই।