• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সনিয়ার তিন কমিটি, ঠাঁই বিক্ষুব্ধদেরও

Sonia
—ফাইল চিত্র।

এক মাসের বেশি সময় ধরে বুকে সংক্রমণ হয়ে রয়েছে। দিল্লির দূষণে শরীর  সারছে না। হাঁপানির সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সনিয়া গাঁধীকে চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, দিল্লি ছেড়ে অপেক্ষাকৃত গরম কোনও জায়গায় কিছু দিন কাটিয়ে আসুন।

চিকিৎসকদের কথায় শুক্রবারই রাহুল গাঁধী সনিয়াকে নিয়ে গোয়া চলে গিয়েছেন। কংগ্রেস সভানেত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সকলেই উদ্বিগ্ন। কিন্তু গোয়া রওনা হওয়ার আগে সনিয়া তিনটি কমিটি তৈরি করেছেন, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরে।

অর্থনীতি, বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখে তাঁকে ওয়াকিবহাল রাখার জন্য সনিয়া কমিটি তিনটি গঠন করেছেন। সব কমিটিতেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ রয়েছেন। গত অগস্টে কংগ্রেসের ২৩ জন ‘বিক্ষুব্ধ’ নেতা দলের হাল নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে সনিয়া গাঁধীকে চিঠি লিখেছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা, শশী তারুর, বীরাপ্পা মইলিরাও রয়েছেন এই সব কমিটিতে। সম্প্রতি কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে মুখ খোলা পি চিদম্বরমও রয়েছেন আর্থিক বিষয়ক কমিটিতে।

তার পরেও কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ নেতাদের প্রশ্ন, এক দিকে বলা হচ্ছে, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই নতুন কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচন সেরে ফেলা হবে। কিন্তু কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটিতে নির্বাচন হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তারই মধ্যে অন্তর্বর্তী সভানেত্রী হিসেবে সনিয়া একের পর এক কমিটি গঠন করছেন।

সনিয়া গাঁধীকে চিঠি পাঠানো বিক্ষুব্ধ নেতাদের মূল দাবি ছিল, পুরো সময়ের সক্রিয় নেতৃত্ব এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিতে নির্বাচন। এখন যে ওয়ার্কিং কমিটি রয়েছে, তাতে সকলেই কংগ্রেস সভানেত্রী মনোনীত। বিক্ষুব্ধ নেতাদের যুক্তি ছিল, ওয়ার্কিং কমিটি যদি মনোনীত হয়, তা হলে তারা হাইকমান্ডের মন জুগিয়েই চলবে। সে কারণেই ওয়ার্কিং কমিটি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলছে।

এর পরে ঠিক হয়, ছয় মাসের মধ্যে সভাপতি নির্বাচন হবে। তার জন্য নির্বাচন কমিটিও তৈরি হয়। জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সেরে ফেলতে এআইসিসি-র প্রায় দেড় হাজার প্রতিনিধির জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই হাজার দেড়েক প্রতিনিধিই সভাপতি পদে নির্বাচনে ভোট দেবেন। কিন্তু কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির নির্বাচন হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

কংগ্রেস নেতারা বলছেন, রাহুল গাঁধী বেঁকে না-বসলে তিনিই যে সভাপতি হবেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু ওয়ার্কিং কমিটি নির্বাচনের বিষয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা মিলছে না। বস্তুত গত ৫০ বছরে প্রকৃত অর্থে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিতে নির্বাচন মাত্র দু’বার হয়েছে। দু’বারই গাঁধী পরিবারের বাইরের লোক পি ভি নরসিংহ রাও ও সীতারাম কেশরী দলের সভাপতি পদে ছিলেন। বাকি ক্ষেত্রে সভাপতি মনোনীত হওয়ার পর কংগ্রেস নেতারা তাঁকেই ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।

বিক্ষুব্ধদের ক্ষোভের মুখে সনিয়া রোজকার দল পরিচালনা ও সাংগঠনিক বিষয়ে দেখাশোনার জন্য ছয় সদস্যদের কমিটি গঠন করেছিলেন। ওই কমিটির দু’জন আহমেদ পটেল ও এ কে অ্যান্টনি কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে। ওই কমিটি গঠনের পরেই রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় গিয়েছিলেন সনিয়া। তার আগে জুলাইয়ে তাঁকে দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। এ বার গোয়ায় যাওয়ার আগে তিনি তিনটি কমিটি গঠন করেছেন।

কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, ‘‘সভাপতি ও ওয়ার্কিং কমিটির নির্বাচন দ্রুত সেরে ফেলে সনিয়াকে রোজকার কাজ থেকে অব্যহতি দেওয়াটাই দরকার। রাহুল গাঁধীকেই এ বিষয়ে সক্রিয় হতে হবে। অথবা পুরো লাগাম নতুন সভাপতির হাতে ছেড়ে দিতে হবে।’’ তবে কী যে হবে, অন্ধকারে সকলেই।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন