• অনমিত্র সেনগুপ্ত
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

গড়িমাইয়ের পুজো

রক্তস্নান রুখে দিল এসএসবি

1
নেপাল দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ।—ফাইল চিত্র।

মানত রক্ষা রক্তস্নানে!

তাই পাঁচ বছর অন্তর গড়িমাই মন্দিরের চাতাল ভেসে যেত রক্তের ধারায়। একটি-দু’টি নয়, ছ’বছর আগে প্রায় পাঁচ লক্ষ পশু বলির সাক্ষী থেকেছে এই মন্দির। সামনে খোলা প্রান্তর। বিরাট মাঠ জুড়ে পড়ে পশুর লাশ। ষাঁড়, ছাগল, ভেড়া—বাদ নেই ইঁদুরও। রক্তাক্ত বধ্যভূমিতে তালগোল পাকিয়ে এক হয়েছে সকলে।

বধ্যভূমি কিন্তু ঘরের পাশেই। ভারত-নেপাল সীমান্তে। নেপালের বারিয়ারপুর গ্রামের গড়িমাই মন্দির প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সাক্ষী থাকে রক্তস্নানের। ২০০৯ সালে বলিদানের সংখ্যা পৌঁছেছিল পাঁচ লক্ষে! শক্তিদেবীর এই মন্দিরটি নেপালে হলেও পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় করেন সেখানে। দু’দেশের ভক্তদের মানত রক্ষা করতে ভারত-নেপাল সীমান্ত দিয়ে চালু হয়ে যায় পশুদের অবৈধ চোরাচালান।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পশু পাচার নিত্যদিনের সমস্যা। কিন্তু ভারত-নেপাল সীমান্তে ব্যাপারটা মাথাচাড়া দেয় প্রতি পাঁচ বছরে। গড়িমাইয়ের পুজো এলেই বেড়ে যায় এই চোরাচালান। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এই রক্তস্নানের পিছনেও রয়েছে আড়াইশো বছর আগের একটি গল্প। নেপালের বারিয়ারপুর গ্রামের ভূস্বামী ভগবান চৌধুরী তখন মাখওয়ানপুর দুর্গে বন্দি। জনশ্রুতি, জেলবন্দি ভগবানকে দর্শন দেন গড়িমাই দেবী। বিপদ থেকে উদ্ধারের আশ্বাস দেন। পরিবর্তে পঞ্চবলী চান তিনি। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ভগবান চালু করেন বলি প্রথা। সেই শুরু। তার পর পাঁচ বছর অন্তর গড়িমাইয়ের মন্দিরকে ঘিরে মেলা—উৎসবের আয়োজন হয়ে আসছে।

ভক্তির সঙ্গে ছড়িয়েছে তুমুল বিতর্কও। পশুবলির প্রশ্ন নিয়ে সীমান্তের দু’পাশেই গড়ে উঠেছে তুমুল প্রতিবাদ। এত বিরাট সংখ্যায় নিরীহ পশুর হত্যার ছবি দেখে আঁতকে উঠেছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্টও। মানত রক্ষার নামে পশুর চোরাচালান রুখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নির্দেশ দেয় আদালত। শেষ পর্যন্ত সে দায়িত্ব পড়ে ভারত-নেপাল সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র সীমা বল(এসএসবি)-এর ঘাড়ে। সীমান্তে মাদক বা মানব পাচার আটকাতে হিমশিম খেলেও অন্তত পশু পাচার রুখতে সাফল্য পেয়েছে এসএসবি।

২০০৯-এ পাঁচ লক্ষ পশুবলির কথা শুনে উদ্বিগ্ন ছিল সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী মেলা অর্থাৎ ২০১৪ সালে হত্যা যতটা সম্ভব বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। বিশেষ করে ভারত থেকে পশু পাচার আটকাতে কড়া পদক্ষেপ করতে বলা হয়। নভেম্বরে মেলা শুরুর এক মাস আগেই, নেপাল সীমান্তে পশু নিয়ে পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাড়ানো নিরাপত্তাবাহিনীর সংখ্যাও। এসএসবি-র ডিজি বংশীধর শর্মার দাবি, ‘‘পাঁচ বছর আগে পাঁচ লক্ষ পশু বলি হয়েছিল। কিন্তু গত নভেম্বরে কমে দাঁড়ায় ৩৫ হাজারে। অধিকাংশটাই স্থানীয় নেপালিরা নিয়ে এসেছিলেন। ভারত থেকে খুব কম পশু পাচার হয়েছে।’’ বাহিনীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। জুটেছে আন্তর্জাতিক পুরস্কারও। সম্প্রতি এসএসবি-র ডিজি বংশীধর শর্মার হাতে ‘লিডারশিপ ইন অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার’ পুরস্কার দিয়েছেন পশুপ্রেমী তথা কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী মেনকা গাঁধী। ভবিষ্যতে ভারত-নেপাল সীমান্তে পশু পাচার রুখতে সশস্ত্র সীমা বলের নেতৃত্বে দশ সদস্যের কমিটি গঠন হয়েছে। কৃষি, পরিবেশ ও বন মন্ত্রকের সচিবরা ছাড়াও এতে রয়েছেন
পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ও উত্তরাখণ্ডের মুখ্যসচিবরা।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন