কাশ্মীরে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে কেন্দ্র ও জম্মু-কাশ্মীর সরকার। অন্য দিকে, হুমকি-পোস্টার ছড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিশেষ মর্যাদা লোপ ও কাশ্মীরে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বহু আর্জি পেশ হয়েছে কোর্টে। আজ সেগুলির শুনানিতে বিচারপতি এন ভি রামানার বেঞ্চ জানায়, সরকারের হলফনামা থেকে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। বিচারপতিরা বলেন, ‘‘আবেদনকারীরা নিজেদের অভিযোগ নিয়ে সওয়াল করেছেন। আপনাদেরও প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে হবে।’’

অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল জানান, কাশ্মীরে  সতর্কতামূলক পদক্ষেপের জন্যই বিশেষ মর্যাদা লোপের পর পুলিশের গুলিতে কেউ নিহত হননি। ইন্টারনেট চালু থাকলে এক এক বারে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গিদের ১ হাজার বার্তা পাঠানো যেত। তাই ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রশ্ন না তুলে পরিস্থিতি দক্ষ হাতে সামলানোর জন্য সরকারকে সাধুবাদ দেওয়া উচিত।’’ কেন্দ্রের আর এক আইনজীবী তুষার মেহতা জানান, কাশ্মীরে কড়াকড়ি এখন অনেকটাই কম। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে জমা পড়া আবেদনগুলি অপ্রাসঙ্গিক। 

ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে পোস্টারের জেরে আজও বন্ধ ছিল শ্রীনগর, গান্ডেরবাল-সহ বহু এলাকার দোকানপাট। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আজ অবন্তীপোরা থেকে আসিফ আহমেদ বাট নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত ত্রালের বাসিন্দা। হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে তার যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ পুলিশের। তার বিরুদ্ধে হুমকি পোস্টার ছাপানো ও ছড়ানোর অভিযোগ। পুলিশ জানায়, কুলগামের কাছে শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কের উপরে আজ বিস্ফোরক মেলে।

কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আজ ফের স্বস্তির সুর শুনেছে ভারত। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজ়েন্টেটিভসে বিশেষ মর্যাদা লোপের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য পিট ওলসন বলেন, ‘‘৭০ বছর ধরে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদের জন্য কাশ্মীরিরা পৃথক আইন মানতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ মর্যাদা লোপের ফলে বাকি ভারতীয়দের মতো সমান অধিকার ভোগ করবেন তাঁরা।’’ ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার জানান, কাশ্মীর পুনর্গঠন নিয়ে দিল্লির অবস্থান আমেরিকার সব রাজনৈতিক দলই বুঝতে পেরেছে।