সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছল রাফাল মামলা। শুনানি সামনের সপ্তাহে। কিন্তু গোটা ঘটনার পিছনে বিজেপির পাতা ‘ফাঁদ’ দেখছে কংগ্রেস। রাফাল যুদ্ধবিমান কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রচারকে উচ্চগ্রামে নিয়ে গিয়েছেন রাহুল গাঁধী। যে ধাক্কা সামলাতে আজও সব মন্ত্রীকে ডেকে রাফাল অভিযোগের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে।

দেশ জুড়ে রাফাল নিয়ে প্রচারে নামলেও কংগ্রেস কিন্তু যৌথ সংসদীয় কমিটি গড়ে তদন্তের কথাই বলে যাচ্ছে। এই প্রচারে নাজেহাল বিজেপি বরং রাহুলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলে এসেছে, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে আদালতে যাচ্ছেন না কেন কংগ্রেস সভাপতি? এমন পরিস্থিতিতে মনোহর লাল শর্মা নামে এক আইনজীবী আজ রাফাল নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করেছেন খোদ নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে।

কিন্তু এতে দু’টি সন্দেহ তৈরি হয়েছে কংগ্রেসে। এক, শেষ পর্যন্ত যাতে খারিজ হয়ে যায়, তার জন্যই কি খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা? দুই, ২০১৯-এর আগে মামলা যত দিন চলবে, তত দিন বিচারধীন বিষয়ে কংগ্রেসের মুখ বন্ধ করতে ও অভিযোগের জবাব দেওয়ার দায় এড়াতে মোদী অমিত শাহরা এই মামলাকে হাতিয়ায় করবে না তো?

এই মামলাকে ‘ফাঁদ’ বলে মনে করার আর একটি কারণ মামলাকারীর অতীত। এই আইনজীবী কথায় কথায় নানা বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা করেন। অনেক ক্ষেত্রেই আদালতের ধমকও খান। আজ অবশ্য তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে আগামী সপ্তাহে শুনানিতে রাজি হয়েছে শীর্ষ আদালত।

শর্মার আবেদন, বিনা কারণে রাফালের পুরনো চুক্তি বাতিল করে নতুন চুক্তি করা হয়েছে। সংসদেরও মঞ্জুরি নেওয়া হয়নি তাতে। এর মধ্যে দুর্নীতি আছে, ষড়যন্ত্রেরও গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এক জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির অধীনে সিট তথা বিশেষ তদন্তকারী দল গড়ে তদন্ত করতে হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিটি যেন কার্যকর করা না হয়।

কংগ্রেস ঠিক এই অভিযোগ ও দাবিগুলিই এত দিন তুলে আসছিল। কিন্তু আজ দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘এটি বিজেপির ফাঁদ। যে ভাবে আবেদন করা হয়েছে, তাতে তা খারিজ হয়ে যাওয়ারই সম্ভাবনা। তখন বিজেপি প্রচার করতে পারবে, রাফালে কোনও দুর্নীতিই হয়নি।’’

বিজেপির এই চাল ভেস্তে দিতে এ দিন থেকেই কংগ্রেস মাঠে নামিয়েছে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিকে। সাংবাদিক বৈঠক করে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, সম্প্রতি রাশিয়ার থেকে অস্ত্র কিনতে বেসরকারি সংস্থাকে বরাত দিতে দেয়নি সরকার। তা হলে রাফালে কেন অনিল অম্বানীকে দেওয়া হল? রাফাল বরাতও একই ভাবে হস্তক্ষেপ করে বাতিল করুক সরকার।

এরই মধ্যে বায়ুসেনার উপপ্রধান এস বি দেও আজ বলেন, ‘‘রাফাল খুব সুন্দর ও যোগ্য বিমান। আমরা সকলে অপেক্ষা করছি। প্রতিপক্ষদের সামনে এই বিমান ভারতকে অনেক সুবিধা দেবে। যাঁরা রাফাল চুক্তির সমালোচনা করছেন, তাঁদের বোঝা উচিত নিয়ম মেনেই যুদ্ধবিমানগুলি কেনা হচ্ছে।’’