উত্তর-পূর্বের প্রত্যন্ত রাজ্যগুলিতে পণ্য পরিবহণ বরাবরই চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রের নতুন পরিকল্পনায় এ বার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত তাজপুর ও সাগরের সমুদ্র বন্দর দু’টি।

কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, এই কাজে বাংলাদেশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সরকারি স্তরে বেশ কয়েক দফা কথাবার্তা হয়েছে। সে দেশের চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দরের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরার মতো রাজ্যগুলির রেল ও সড়ক যোগাযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এটা হলে তাজপুর ও সাগর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বাংলাদেশের ওই দুই বন্দরে যাবে। সেখান থেকে তা পৌঁছে দেওয়া হবে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে।

নিতিন বলেন, ‘‘তাজপুর-সাগরের সঙ্গে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দরের যোগাযোগ তৈরি হলে, বস্তুত ওখান থেকেই উত্তর-পূর্ব ভারতে জরুরি পণ্য যাবে।’’ প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উত্তর-পূর্বের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সড়ক ও রেল যোগাযোগ প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়। পণ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন সেখানকার বাসিন্দারা।

কী কী সামগ্রী তাজপুর দিয়ে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সরবরাহ হতে পারে?

গডকড়ী জানিয়েছেন, প্রধানত খাদ্যশস্য ও জ্বালানির মতো জরুরি পণ্য পশ্চিমবঙ্গের দুই বন্দর থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্বে খাদ্য ও পেট্রোপণ্যের সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। নদীপথে এই সব পণ্য তাজপুর ও সাগরে পাঠানোর জন্য গঙ্গা দিয়ে বারাণসী থেকে হলদিয়া পর্যন্ত নতুন জলপথ তৈরির কাজ কেন্দ্র ইতিমধ্যেই হাতে নিয়েছে।