জ়োম্যাটো কাণ্ডের পরে ফের ধর্মের সঙ্গে খাবারকে জড়িয়ে বিতর্ক। বলা ভাল জোড়া বিতর্ক। আর যে দুই রেস্তরাঁকে নিয়ে বিতর্ক, সে দু’টিই তামিলনাড়ুর দুই শহরের।

সুবাসিত কফির জন্য নাম আছে তামিলনাড়ুর ছোট্ট শহর কুম্বকোনমের। কাবেরী অববাহিকায় তাঞ্জাভুর জেলার এই শহরের সঙ্গে মুরগির কোনও রান্নার যোগাযোগের কথা কেউ কখনও শোনেনি। কিন্তু মাদুরাইয়ের একটি রেস্তরাঁ চিকেনের নতুন একটি পদের নাম দিয়েছিল এই শহরের নামে। সঙ্গে যোগ করা হয়েছে ব্রাহ্মণ আইয়ারদের নামও। ফ্লেক্সের বিরাট বোর্ড টাঙিয়েছিল রেস্তরাঁটি, ‘নতুন পদ চেখে যান। নতুন স্বাদের নতুন পদ— কুম্বকোনম আইয়ার চিকেন!’

আইয়ার সম্প্রদায় গোঁড়া নিরামিষাশী। মুরগি চচ্চড়িতে কেন তাদের নাম জোড়া হবে, প্রশ্ন উঠতেই বোর্ড নামিয়ে নিয়েছে রেস্তরাঁটি। মালিক জানিয়েছেন, ‘‘ভুল হয়ে গিয়েছে, মাফ চাইছি। এই পদ আর আমরা বিক্রি করব না।’’ তাতেও ছাড় নেই। হিন্দু তামিঝার কাটচির নেতা রাম রবিকুমার অগ্নিশর্মা। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘সস্তা প্রচার পেতে কেন এই কাজ করবে তারা? নিশ্চয়ই অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে।’’ মুসলিম সংগঠন তামিলনাড়ু তৌহিদ জামাতের নেতা আব্দুল রহমানও মনে করেন কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিশ্বাসকে আঘাত দেওয়াটা অন্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘আইয়াররা নিরামিষাশী জেনেও তাঁদের নামে কেন চিকেনের পদের নাম দেওয়া হবে? এর উদ্দেশ্যটা কী?’’ 

এক জন ‘অহিন্দু’ ছেলে খাবার দিতে আসছে জেনে জ়োম্যাটোর অর্ডার বাতিল করতে চেয়েছিল এক গেরুয়া ভক্ত। জ়োম্যাটো তার জবাবে জানিয়েছিল, ধর্মের সঙ্গে খাবারকে মেলানোয় তারা বিশ্বাসী নয়। খাবারই ধর্ম, এটাই তাদের নীতি। অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তা হলে বিভিন্ন 

হোটেলের ‘হালাল মাংস’ বা ‘জৈন খাবার’ লেখা পদ কেন ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয় জ়োম্যাটো? সে প্রশ্নের জবাব মেলেনি। তবে জ়োম্যাটোর স্লোগান নিয়ে বাড়াবাড়ি করার অভিযোগ উঠেছে মাদুরাই থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরের শহর পুডুকোট্টাইয়ের একটি রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে। তারা বোর্ড দিয়ে বলেছে, ‘ধর্মের উল্লেখ করে কেউ খাবার চাইলে, তাকে খাবার দেওয়া হবে না। কারণ খাবারের কোনও ধর্ম হয় না।’ অনেকে রেস্তরাঁ মালিকদের সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, ঠিক কাজ হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটাও অস‌ংবেদনশীলতা। রেস্তরাঁয় বিশেষ ধরনের খাবার কেউ খুঁজতেই পারেন, তাঁকে তা না-দেওয়াটা হেনস্থার নামান্তর।