দেশ জুড়ে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আবহেই নবম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ পড়ল গণতন্ত্র নামে একটি অধ্যায়। অভিযোগের কাঠগড়ায় ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)। বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত ছাড়াই ওই অধ্যায়টি বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এনসিইআরটি-র বিরুদ্ধে। এনসিইআরটি-র এই বই মূলত সিবিএসই বোর্ডে পড়ানো হয়ে থাকে।

নবম শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম পরিচ্ছদটি ছিল সমসাময়িক বিশ্বের গণতন্ত্র নিয়ে। যেখানে ১৯৫০ সালের পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঔপনিবেশিকতার শেষে কী ভাবে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছে তা তুলে ধরা হয়েছিল। একই সঙ্গে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলি যেমন পাকিস্তান, মায়ানমার কিংবা নেপালে কী ভাবে অনেক জটিলতার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের বিস্তার হয়েছে, তা-ও ছিল ওই পরিচ্ছদে। স্বৈরতন্ত্রের অবসানে গণতন্ত্রের ভূমিকা, কী ভাবে ধর্মঘটের মাধ্যমে শ্রমিকেরা বিভিন্ন দেশে নিজেদের দাবি আদায় করে নিয়েছে, তা নিয়েও বর্ণনা ছিল ওই অধ্যায়ে। কিন্তু বর্তমান বছরের পাঠ্যক্রমে গোটা অধ্যায়টিকেই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিইআরটি।

কেন ওই সিদ্ধান্ত, তার ব্যাখ্যায় অবশ্য এনসিইআরটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকেই হাতিয়ার করেছে। তারা জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক ভাবেই বইয়ের ওই অংশটি সরানো হয়েছে। ওই অধ্যায়টি রাখার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা নিয়ে তারা জনগণের কাছে জানতে চেয়েছিল। এনসিইআরটি জানিয়েছে, প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তির কাছ থেকে ১ লক্ষ পরামর্শের ভিত্তিতে ওই অধ্যায়টি বইয়ে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

সোনিপথের ওপি জিন্দাল কলেজের অধ্যাপক ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়ের মতে, গত দেড়শো বছরে মানব সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে গণতন্ত্রের কারণে। গণতন্ত্র সবার সমান অধিকারকে মর্যাদা দিয়েছে। কিন্তু দক্ষিণপন্থী সরকার সব সময়েই সাধারণ মানুষের অধিকারকে খর্ব করার চেষ্টা চালিয়ে থাকে। যার একাধিক উদাহরণ গত পাঁচ বছরে দেখা গিয়েছে। তাঁর মন্তব্য, ‘‘বিজেপি বা সঙ্ঘ পরিবারের চেষ্টাই হল সাধারণ মানুষের মনে গণতন্ত্রের প্রতি যে আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে সেই ভিতকে নাড়িয়ে দেওয়া। সেই কারণে সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে মোদী সরকার তৎপর।’’