সেই পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। সেই মুম্বইয়ের ব্র্যাডি হাউস শাখা। সেখানে নীরব মোদীর আরও নতুন প্রতারণার সন্ধান মিলল। এ বারের অঙ্ক ৩২১ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। এ দিকে, পিএনবি-কাণ্ডে প্রতারণার অঙ্ক ১২,৭০০ কোটি টাকা ছাড়াবে না বলে বৃহস্পতিবারই মুম্বইয়ে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় আর্থিক বিষয়ক সচিব সুভাষ চন্দ্র গর্গ।

পিএনবি কর্তৃপক্ষ এই নতুন প্রায় ৩২২ কোটি টাকা প্রতারণার সন্ধান পেয়ে রবিবারই সিবিআইকে তা জানিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতে আজ নীরব মোদী ও তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে আর একটি এফআইআর দায়ের করল সিবিআই। নীরব ছাড়াও তাঁর সংস্থা ফায়ারস্টার ইন্ডিয়া, ফায়ারস্টার ইন্টারন্যাশনাল, সংস্থার প্রেসিডেন্ট (ফিনান্স) বিপুল অম্বানী ও অন্য কর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পিএনবি-র অভিযোগ, নীরবের সংস্থাগুলি যে-সব কারণে ঋণ নিয়েছিল, সেই কাজে টাকা খরচ হয়নি। ব্যাঙ্কের অন্তর্তদন্তে দেখা গিয়েছে, ধার নেওয়া টাকা নীরবেরই বিভিন্ন সংস্থা সোলার এক্সপোর্ট, স্টেলার ডায়মন্ড, ডায়মন্ড আর ইউ-র মতো সংস্থার মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। রীতিমতো ষড়যন্ত্র করেই ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ আদায় করা হয়েছিল বলে পিএনবি-র অভিযোগ। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ইডি-র সন্দেহ, জালিয়াতির অর্থে বিভিন্ন দেশে নীরব ও তাঁর মামা মেহুল চোক্সী স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন।

মোদী-চোক্সীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রায় ১২,৭০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। দু’জনেরই পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। তাঁদের দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলেও দাবি মোদী সরকারের। কিন্তু মেহুল চোক্সী আজ সিবিআইকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর পক্ষে এখন দেশে ফেরা ‘অসম্ভব’। কারণ ফেব্রুয়ারির শুরুতেই তাঁর হৃদ্‌রোগের সমস্যার জন্য অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাই ছ’মাস দীর্ঘ যাত্রা করা মানা।

সিবিআই তাঁকে যে কোনও ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার নথি জোগাড় করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। মেহুলের পাল্টা দাবি, সিবিআইয়ের কোনও অধিকার নেই এই নির্দেশ দেওয়ার। তাঁর সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কেন পাসপোর্ট বাতিল হয়েছে, সেই ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।

সিবিআইয়ের যুক্তি, নীরব বা মেহুল নানা কারণ দেখালেও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানাননি। তাঁদের বিভিন্ন অজুহাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু নীরব-মেহুলদের কী ভাবে দেশে ফেরানো হবে, তার উত্তরও সিবিআই-কর্তাদের কাছে নেই।

এই বিতর্কের মধ্যেই আজ আর্থিক বিষয়ক সচিব গর্গের দাবি, পিএনবি কেলেঙ্কারির বহর ১২,৭০০ কোটি টাকা ছাড়াবে না। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের হাতে আর কোনও তথ্য-প্রমাণ আসেনি।’’ তিনি প্রসঙ্গত জানান, ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কগুলিকে অনুৎপাদক সম্পদের সব অ্যাকাউন্টের উপর কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে আর্থিক পরিষেবা দফতর।

এক বছর সময় পেতে পারে পিএনবি। দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক প্রতারণার শিকার পিএনবি-কে ওই ১২,৭০০ কোটি টাকার জন্য আর্থিক সংস্থান রাখতে এক বছর সময় দিতে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ব্যালান্স শিটে চাপ কিছুটা কমাতে সময় চেয়ে তারা শীর্ষ ব্যাঙ্ককে চিঠি দিয়েছিল। এ ধরনের নজিরবিহীন ঘটনায় ব্যাঙ্ক বাড়তি সাবধানতা নিতে চায় বলেই এই আর্জি জানিয়েছে। ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞদের অবশ্য ধারণা, এক বছরের বেশি সময় মিলবে না।

স্বামীর তোপ। অর্থ মন্ত্রকের এক কর্তাকে গত বছর দেওয়ালিতে সোনা উপহার দিয়েছিলেন নীরব মোদী। এই অভিযোগে সেই কর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি করলেন বিজেপি সাংসদ  সুব্রহ্মণ্যন স্বামী। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মোদীর বিরুদ্ধে ঘুষ প্রতিরোধ আইনে মামলা করা উচিত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আতসকাচে


নীরবের বিরুদ্ধে নতুন প্রতারণার অভিযোগ সিবিআইয়ের নজরে আনল পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক


ষড়যন্ত্র করে ব্যাঙ্কঋণ আদায় করে নেওয়ার অভিযোগ


ধার নেওয়া টাকা খরচ হয়েছে অন্য কাজে


ফের নীরব ও তাঁর সংস্থা ফায়ারস্টারের বিরুদ্ধে এফআইআর সিবিআইয়ের


ইডি-র সন্দেহ জালিয়াতির অর্থে বিভিন্ন দেশে স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন নীরব-মেহুল