স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ করত ছাত্রীদের। ধর্ষণ করার পর খুন করে নিজের জমির পাশেরই একটি পরিত্যক্ত কুয়োতে ফেলে দিত দেহগুলো। এক, দুই, তিন…এ ভাবে অপহরণ, ধর্ষণ-খুনের সংখ্যাটা ক্রমেই বাড়ছিল। গ্রামে প্রায়ই খবর আসছিল এ বাড়ির মেয়ে নিখোঁজ, ও বাড়ির মেয়েকে গত কয়েক দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! অথচ গ্রামের মধ্যেই যে খুনি আর পাঁচটা লোকের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি গ্রামবাসীরা। পুলিশি তদন্তে যখন অভিযুক্তের নাম প্রকাশ্যে আসে শিউরে উঠেছে গোটা গ্রাম। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তের নাম মারি শ্রীনিবাস রেড্ডি।

তেলঙ্গানার মঞ্চেরিয়াল জেলার হাজিপুর গ্রামের ঘটনা। গত কয়েক দিন ধরেই গ্রামেরই ৫০ ফুট গভীর একটি পরিত্যক্ত কুয়ো থেকে তিনটে কঙ্কালের অংশ উদ্ধার হয়। ফরেন্সিক পরীক্ষা করে দেখা যায় কঙ্কালগুলো মেয়েদের। বয়স ১১ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

সপ্তাহখানেক আগে হাজিপুরের বোমালারামারাম এলাকা থেকে বছর চোদ্দর এক কিশোরীর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ দায়ের হয় পুলিশের কাছে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তে নামে পুলিশ। তখনই ওই কুয়োতে কঙ্কাল পড়ে থাকার বিষয়টি সামনে আসে। সেই কঙ্কালগুলোর ফরেন্সিক পরীক্ষা করে জানা যায়, মেয়েগুলোকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। খুনির খোঁজে নামে পুলিশ। বিভিন্ন সূত্র মারফত খবর পেয়ে শ্রীনিবাসের বাড়িতে হানা দেয় তারা। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রথমে আটক করে জেরা করা হয় শ্রীনিবাসকে। তখনই সে অপহরণ ও খুনের কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেরায় পুলিশকে শ্রীনিবাস জানায়, পর পর কয়েকটি স্কুল ও কলেজ ছাত্রীকে লালসার শিকার বানিয়েছে সে। শুধু স্কুল বা কলেজ ছাত্রীই নয়, এক মহিলাকেও ধর্ষণ ও খুনের করার কথা স্বীকার করেছে সে।

আরও পড়ুন: গঢ়চিরৌলীতে মাওবাদী হামলা, বিস্ফোরণে নিহত ১৫ কমান্ডো এবং গাড়ির চালক

আরও পড়ুন: ‘বদলার খিদে মেটেনি’, ভারত ও বাংলাদেশে নতুন করে সন্ত্রাসের হুমকি দিল আইএস

 

কী ভাবে শ্রীনিবাস স্কুল ছাত্রীদের ফাঁদে ফেলত, তা শুনে চমকে উঠেছেন পুলিশ আধিকারিকরাও। স্কুল বা কলেজের জন্য পড়ুয়াদের বোমালারামারাম থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কিসারায় যেতে হয়। যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম বলতে বাস এবং সংখ্যায় তা খুবই নগন্য। যদি কোনও ভাবে সেই কেউ বাস মিস করে, তা হলে হাঁটা পথেই গ্রামে যেতে হয়।

এ রকমই বাড়ির পথে ফিরছিল বছর নয়েকের মেয়েটি। বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে তাকে গাড়িতে তুলে নেয় শ্রীনিবাস। কিন্তু বাড়িতে না নিয়ে গিয়ে গ্রামেরই একটা নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে সে। তার পর খুন করে তার জমিরই শুকনো কুয়োতে ফেলে দেয় ওই নাবালিকার দেহ। এর পর ঠিক একই কায়দায় এক কলেজ পড়ুয়া, আরও এক স্কুল পড়ুয়াকে নিজের ফাঁদে ফেলে। শ্রীনিবাসের কাছ থেকেই ওই কুয়োর সন্ধান পায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে দেখা যায় পর পর কয়েকটি কঙ্কাল পড়ে রয়েছে। একটি কঙ্কালের পাশ থেকে ব্যাগ পাওয়া গিয়েছে। তার ভিতরে আধার কার্ডও উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক। কুয়োর এক কোণে ব্যাগের মধ্যে বাঁধা অবস্থায় এক নাবালিকার দেহাবশেষও উদ্ধার হয়। রাচাকোন্ডার পুলিশ কমিশনার মহেশ ভগবত্ জানিয়েছেন, শ্রীনিবাস জেরায় পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ২০১৫ থেকে এই কাজ করে আসছে সে।

গ্রামের ছেলের এমন কাণ্ডের কথা প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। শ্রীনিবাসের বাড়িতে ভাঙচুর চালান তাঁরা। পুলিশ জনিয়েছে, অপহরণ, ধর্ষণ এবং খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।