• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বর্ণিকা-কাণ্ডে মুখ পুড়ছে বিজেপির, সংসদে বিবৃতি দেবেন রাজনাথ

Barnika Kundu
বর্ণিকা কুণ্ডু। ছবি: সংগৃহীত।

বর্ণিকা-কাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার হলেও, আজও বরালার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনতে ব্যর্থ হলো চণ্ডীগড় পুলিশ। কেন্দ্রশাসিত চণ্ডীগড়ের পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে। তাই বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে মুখরক্ষায় নামছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। কাল সংসদে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তকে আদপেই প্রভাবিত করা হচ্ছে না বলে আজ মুখ খুলেছেন বিকাশের বাবা তথা হরিয়ানার বিজেপি সভাপতি সুভাষ বরালা-ও। তাঁর কথায়, ‘‘বর্ণিকা আমার মেয়ের মতো। তদন্তকারীদের প্রভাবিত করার কোনও প্রশ্নই নেই।’’

কাল রাজনাথ বিবৃতি দেবেন বলেই হয়তো আজ চণ্ডীগড় থেকে রিপোর্ট নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারাও। এ দিকে, তিন দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বর্ণিকার হয়ে পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার হুমকি দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। ফলে অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপির। 

আরও পড়ুন: দিনভর নাটক শেষে জয় হল পটেলরই

প্রথমে সিসিটিভি-র ফুটেজ হারিয়ে গিয়েছে বলা হলেও, গতকাল রাতে চণ্ডীগড় পুলিশ জানায়— কিছু ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে। যে ফুটেজে শুক্রবার রাতে বর্ণিকার গাড়ির পিছনে তীব্র গতিতে একটি গাড়িকে যেতে দেখা যায়। বিরোধীদের অভিযোগ, পিছনের গাড়িটি ছিল বিকাশের। বর্ণিকাকে অপহরণ করতেই তাঁকে ধাওয়া করেন বিকাশ। অভিযোগ, স্রেফ প্রভাবশালী পিতার ছেলে হওয়ায় চণ্ডীগড় পুলিশ বিকাশের বিরুদ্ধে কোনও অপহরণের অভিযোগ আনেনি। ফলে ঘটনার রাতেই থানা থেকে জামিন পেয়ে যান তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারাও মনে করছেন, অভিযুক্ত প্রভাবশালী পিতার সন্তান হওয়ায় মেপে পা ফেলতে চাইছে পুলিশও। কারণ সে দিন বিকাশের গ্রেফতারির পরেই রাজ্যের একাধিক ছোট-বড় বিজেপি নেতা থানায় ফোন করে বিতর্ক মিটিয়ে নেওয়ার জন্য ‘অনুরোধ’ জানাতে শুরু করেছিলেন। ফলে পুলিশের উপরে যে প্রথম থেকেই চাপ ছিল, তা অনেকাংশেই মেনে নিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালার অভিযোগ, বিজেপি নেতার ছেলে হওয়ার সব রকম সুযোগ পাচ্ছেন বিকাশ। 

মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা সাইনা এনসি কাল বিকাশের সঙ্গে বর্ণিকার একটি ছবি টুইটারে পোস্ট করে দাবি করেন, বিকাশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বর্ণিকাকে ‘তথাকথিত নিগৃহীতা’ ও বিকাশের ‘সুবিচারের দাবি’ করেও টুইট করেন তিনি। পরে অবশ্য সাইনা দাবি করেন, তিনি ওই ছবিটি পোস্ট করেননি। তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। সাইনা আজ লেখেন ‘‘নিজের অ্যাকাউন্ট ফিরে পেয়েছি। সব সময়েই মহিলাদের সম্মান রক্ষা করা উচিত।’’ সাইনার এই সাফাইয়ে অবশ্য কান দিচ্ছে না বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, নকল ছবি দেখিয়ে বিকাশের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি।

বিতর্কিত মন্তব্যের পথে হেঁটেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় আজ টুইট করেন, ‘‘মত্ত অবস্থায় একজন মেয়ের পিছনে ধাওয়া করা নিন্দনীয়। কিন্তু তদন্তের আগেই কেন কারও বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ আনা হবে!’’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে এক জন ‘নিগ্রহকারী’র পক্ষে সওয়াল করার জন্য টুইটারেই বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন বাবুল সুপ্রিয়। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন