লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশী, উমা ভারতীদের বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র মামলায় আগামী ৯ মাসের মধ্যে রায় দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই মামলার বিশেষ আদালতের বিচারককে রায় দিতে হবে।

বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ২ অগস্ট থেকে অযোধ্যায় রামমন্দির-বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জমি নিয়ে মামলার শুনানি শুরু হতে পারে। প্রাক্তন বিচারপতি এফ এম আই কলিফুল্লার নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারী কমিটিকে ১ অগস্টের মধ্যে মধ্যস্থতায় কত দূর কী অগ্রগতি হয়েছে, তা জানাতে বলা হয়েছে।

অযোধ্যার জমি নিয়ে মধ্যস্থতার পাশাপাশি লখনউয়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সুরেন্দ্র কুমার যাদবের স্পেশাল বেঞ্চে বাবরি মসজিদ ভাঙায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার শুনানিও চলছে। কিন্তু ওই বিচারকের ৩০ সেপ্টেম্বর অবসর নেওয়ার কথা। মামলার নিষ্পত্তির জন্য আরও ছয় মাস সময় চেয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারও জানিয়ে দেয়, এতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই।

আজ বিচারপতি রোহিংটন নরিম্যান ও বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২-তম অনুচ্ছেদে প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, চার সপ্তাহের মধ্যে ওই বিচারকের চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে হবে। চাকরির বাড়তি মেয়াদের সময়টুকু ওই বিচারক ইলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকবেন। সাক্ষ্য নথিবদ্ধ করার কাজ ছয় মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং আগামী ৯ মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে হবে।

আডবাণী, জোশী, উমার বিরুদ্ধে ২০১৭-তেই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চার্জ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ বিনয় কাটিয়ার, সাধ্বী ঋতম্ভরাদের বিরুদ্ধেও চার্জ গঠন হয়েছে। অভিযুক্তর তালিকায় নাম থাকলেও শুনানি চলাকালীন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অশোক সিঙ্ঘল, গিরিরাজ কিশোর, বিষ্ণু হরি ডালমিয়ার মৃত্যু হয়েছে। চার্জ গঠনের পর আডবাণীদের ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হয়।