মামলা চলছে। 

লখনউয়ের পুরনো হাইকোর্ট ভবন। এজলাসে টিমটিমে আলো। চার দিকে নথি-প্রমাণ, দলিল-দস্তাবেজ। অনেক কাগজই ঝুরঝুরে। বাইরে ছোট্ট বোর্ডে লেখা ‘অযোধ্যা প্রকরণ’। সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক সুরেন্দ্রকুমার যাদবের এই এজলাসেই চলছে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৭ বছরের পুরনো মামলা। 

১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনায় অভিযুক্ত লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশী, উমা ভারতীর মতো বিজেপি-আরএসএসের নেতারা। মামলা হয়েছে লক্ষাধিক ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ করসেবকের বিরুদ্ধেও। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ, আগামী জানুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করে এপ্রিলের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে হবে। তার জন্য বিচারক যাদবের চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এই রায় ঘোষণা করেই তিনি অবসর নেবেন।

মামলা চলছে দিল্লিতেও।

সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার শুনানি সপ্তাহের পাঁচ দিনই হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ২২ দিন শুনানি হয়ে গিয়েছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, নভেম্বরে অবসরের আগে রায় দেবেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। 

রোজ শুনানি চলছে লখনউয়ের এজলাসেও। ৩৬ জন তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের সাক্ষ্যগ্রহণ  চলছে। তবে তাঁদের অধিকাংশই অবসরপ্রাপ্ত। অনেকে লখনউয়ের বাইরে থাকেন। অপেক্ষা চলে, কখন তাঁরা আদালতে হাজির হবেন। বিচারক যাদব লখনউয়ের জেলা বিচারকও। শুনতে হয় অন্য মামলা। শুনানির মধ্যে প্রশাসনিক ফাইলও সই করতে হয়।

তিন দশক ধরে মামলা চলায় ৪৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৭ জন মারা গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অশোক সিঙ্ঘল, গিরিরাজ কিশোর। ৮৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যেও ১৩৪ জন মৃত। কয়েকশো সাক্ষীর হদিস নেই। নিজের চোখে বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে যেতে দেখা সাক্ষীদের অনেকেই অতি বৃদ্ধ বা অসুস্থ। এজলাসে আসার ক্ষমতা নেই। 

এরই মধ্যে ফের শুনানিতে ছেদ পড়েছে। রাজ্যপাল পদে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংহকে ফের কাঠগড়ায় তুলতে চায় সিবিআই।  সিবিআই এ বিষয়ে নথি পেশের সময়  চাওয়ায় বিচারক যাদব আজ জানিয়েছেন, আবার ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুনানি হবে। আইনজীবীরা মানছেন, কল্যাণকে কাঠগড়ায় তোলা হলে শুনানি শেষ হতে দেরি হবে। বিজেপি নেতাদের আইনজীবীদের দাবি, নরসিংহ রাও সরকারের নির্দেশে সিবিআই বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা সাজিয়েছিল। ঘটনাচক্রে এখন কেন্দ্রে বিজেপির সরকার। অনেকেরই প্রশ্ন, মামলা আরও দীর্ঘায়িত হবে না তো? অযোধ্যা রায়ের পরে বাবরি মামলার মোড় কি ঘুরতে পারে? আদালতের বিচারাধীন বিষয়। সকলেই তাই  ‘স্পিকটি নট’।