দু’দিন আগেই রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে জেএনইউয়ের ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমারের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সেই রাষ্ট্রদ্রোহ আইনেরই কোনও প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নয়া বিতর্ক শুরু করলেন কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল।  প্রবীণ আইনজীবী সিব্বলের কথায়, ‘‘ওই আইন অবিলম্বে বাতিল করা উচিত।  শাসক শিবির ওই আইনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে থাকে।’’

কপিল সরব হতেই পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ইউপিএ জমানার শেষ এক বছর দেশের আইনমন্ত্রী ছিলেন কপিল। সেই সময়ে কেন তিনি ওই আইনটি বাতিল করেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তাঁর অভিযোগ, ইউপিএ আমলে প্রায় ৯ হাজার মৎস্যজীবী কুড়ানকুলাম পরমাণু কেন্দ্রের বিরোধিতা করায় তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। স্বামীর প্রশ্ন, ‘‘সে সময়ে কেন চুপ ছিলেন সিব্বল?’’ ব্রিটিশ আমলের মূল আইনটি জওহরলাল নেহরু জমানায় সংশোধিত হয়েছিল। সে সময়েই কেন তা বাতিল করা হয়নি তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বামী।

রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের (ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪এ) ধারাটি বাতিলের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব  একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। তাদের দাবি, ব্রিটিশ আমলে দেশবাসীর মুক্ত চিন্তাকে আটকাতে ওই আইনটি এনেছিল তৎকালীন ঔপনিবেশিক সরকার। পরে ১৯৬২ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনটি সংশোধন করে জানায়, হিংসা ছড়াতে পারে একমাত্র এমন সরকার-বিরোধী বক্তব্যই ওই আইনের আওতায় আসবে। সম্প্রতি কানহাইয়া-সহ জহওরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের দশ জন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় দিল্লি পুলিশ চার্জশিট জমা দিলে নতুন করে এই বিতর্কে ইন্ধন পড়ে। চার্জশিট পেশের দিনই কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম দাবি করেন, এই আইন বাতিল করা উচিত। কপিল আজ টুইট করে বলেন, ‘‘রাষ্ট্রদ্রোহ আইন অবিলম্বে বাতিল করা হোক। যাঁরা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকার সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের ইচ্ছেমতো চালনা করেন, আইন ভাঙেন, হিংসা ছড়ান তাঁরাই আসল রাষ্ট্রদ্রোহী। ২০১৯ সালে তাঁদের শাস্তি দেওয়া হোক। সরকার বদল করে, দেশ বাঁচাও।’’

কানহাইয়াকে ঢাল করে আসলে মোদী সরকারের উদ্দেশে কপিল আক্রমণ শানাতেই পাল্টা সরব হন বিজেপি নেতৃত্ব। সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর পরে মুখ খোলেন দলের মুখপাত্র জিভিএল নরসিংহ রাও। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘সিব্বল কি গ্রেফতারির ভয় থেকে ওই কথা বলছেন? ইউপিএ সরকারের দশ বছরের শাসনে কেন ওই আইনটি বদল করা হল না সেই প্রশ্নের আগে জবাব দিন সিব্বল।’’