এক সপ্তাহ দেরিতে হলেও, বর্ষা ঢুকে পড়ল কেরলে। শনিবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এ বছর এক সপ্তাহ দেরিতে বর্ষা ঢুকবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। সেই সঙ্গে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত চলবে বলে জানানো হয়। তার পরই এ দিন কেরল উপকূল হয়ে দেশে বর্ষা ঢুকে পড়ে।

এ দিন দুপুরে নিজের টুইটার হ্যান্ডলে বর্ষার আগমনের কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের সচিব মাধবন রাজীবন। তিনি লেখেন, ‘কেরলে আজ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ঢুকে পড়ল।’ ইতিমধ্যেই কেরলের বেশ কিছু জায়গায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গত বছরের বন্যার কথা মাথায় রেখে তাই ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে চূড়ান্ত (লাল) ও মাঝারি (কমলা) সতর্কতা জারি করেছেন কেরল বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ।

চূড়ান্ত সতর্কতা জারির অর্থ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। ১০ জুন ত্রিশূর এবং ১১ জুন এর্নাকুলাম, মালাপ্পুরম এবং কোঝিকোডে় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হয়েছে। মাঝারি সতর্কতার অর্থ ভারী বৃষ্টিপাত। আগামী ১০ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত তা জারি হয়েছে তিরুঅনন্তপুরম, কোল্লাম, আলাপ্পুঝা, এর্নাকুলাম এবং ত্রিশূরে।

আরও পড়ুন: আলিগড়ে শিশু খুনের অভিযুক্ত জেল খেটেছিল নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে!

বেসরকারি আবহাওয়া দফতর স্কাইমেট জানিয়েছে, লক্ষদ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং উত্তর কর্নাটকের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। তবে তামিলনাড়ু উপকূলে তার বিশেষ প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে তারা।

অন্য দিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ভারতেও বর্ষা ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ওড়িশা উপকূল এবং উত্তর বিহারের প্রত্যন্ত এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। তবে ঝাড়খণ্ড এবং পূর্ব উত্তরপ্রদেশে আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণ ছত্তীসগঢ়, মরাঠাওয়াড়া এবং দক্ষিণ-মধ্য মহারাষ্ট্রে। কোঙ্কণ, গোয়া এবং বিদর্ভে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। আরব সাগরের তীরে অবস্থিত মুম্বইয়ে আকাশ মেঘলা থাকবে। হালকা বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হতে পারে।

প্রচন্ড গরমে গত কয়েক দিনে উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছে। রাজস্থানে আবার তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৫০ ডিগ্রি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে চুরুর তাপমাত্রা ছিল ৫০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৯ জুনের মধ্যে দিল্লিতে বর্ষা ঢোকার কথা থাকলেও, তা আরও কয়েক দিন পিছিয়ে যেতে পারে বলে বৃহস্পতিবারই জানিয়ে দেয় আবহাওয়া দফতর।

আরও পড়ুন: তাঁকে দলের সভাপতি করা হোক, রাহুলকে চিঠি লিখে প্রস্তাব প্রাক্তন অলিম্পিয়ানের​

অন্য সময় বর্ষার আগের তিন মাস— মার্চ, এপ্রিল এবং মে মাসে সাধারণত ১৩১.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। তবে এ বছর বৃষ্টি হয়েছে ৯৯ মিলিমিটার। তার জেরে দেশের বহু নদী-নালা এবং জলাশয় শুকিয়ে যেতে বসেছে, যা কৃষিনির্ভর ভারতের পক্ষে দুশ্চিন্তার বিষয়।

(দেশজোড়া ঘটনার বাছাই করা সেরা বাংলা খবর পেতে পড়ুন আমাদের দেশ বিভাগ।)