হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের ফোনে আড়ি পাতার সফটওয়্যার ঢুকিয়ে দিয়েছে কোনও সংস্থা। তাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির পাঠানো সব বার্তা চলে যেতে পারে কোনও দুষ্ট চক্রের হাতে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সাংবাদিক, রাজনীতিক, আইনজীবী বা সমাজকর্মীদের মতো বিশেষ কিছু পেশার মানুষের ফোনই তাদের নিশানা। সন্দেহ করা হচ্ছে ওই দুষ্ট-সফটওয়্যার তৈরি করেছে ইজ়রায়েলের একটি সংস্থা।  

বিশ্বে হোয়াটসঅ্যাপের গ্রাহকের সংখ্যা ১৫০ কোটির বেশি। অন্যদের কাছে গোপন রেখে বার্তা বিনিময়ের আরও অনেক দেশি-বিদেশি অ্যাপ থাকলেও ভারতে এটির জনপ্রিয়তাই সবচেয়ে বেশি। ভারতে এখন ভোট চলছে। তারই মধ্যে এমন ঘটনা বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছে বিভিন্ন মহলে। 

হোয়াটসঅ্যাপের মালিক ফেসবুক স্বীকার করে নিয়েছে, তাদের অ্যাপের মাধ্যমেই ছড়িয়েছে ওই দুষ্ট-সফটওয়্যারের সংক্রমণ। এবং এ থেকে বাঁচতে ফেনে হোয়াটসঅ্যাপ ‘আপডেট’ করতে অর্থাৎ নবতম সংস্করণ নিতে অনুরোধ করেছে মার্ক জ়াকারবার্গের সংস্থাটি। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

চার দিন আগই ফেসবুকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস হিউজ় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বাড়তে বাড়তে এই মঞ্চটি এখন বেলাগাম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছে। এটিকে ভেঙে দেওয়ার সময় এসেছে। এর পরপরই সামনে এল হোয়াটসঅ্যাপের এই গুরুতর বিপত্তি। যদিও আজও তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গিয়েছে, গর্বের সঙ্গে তারা জানাচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপে বলা কথা, পাঠানো সব লেখা, অডিয়ো বা ভিডিয়ো প্রেরক ও প্রাপক বাদে তৃতীয় কোনও ব্যক্তির পক্ষে দেখা-শোনা সম্ভব নয়। ব্যক্তি-পরিসরের গোপনীয়তার সেই সুরক্ষাকবচ যে মোটেই নিশ্ছিদ্র নয়, কার্যত সেটাই আজ কবুল করে নিল ফেসবুক। 

ঘটনার আর একটি গুরুতর দিক হল, বিষয়টি জানা মাত্রই যে ফেসবুক সব গ্রাহককে তা জনিয়ে দিয়ে সতর্ক করেছে তা-ও নয়। বিষয়টি তাদের নজরে এসেছিল মে মাসের গোড়াতেই। পাছে গ্রাহকরা অন্য মঞ্চে সরে যায়, সেই ভাবনা থেকেই তারা তা প্রকাশ্যে আনেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুকের তরফে দাবি করা হয়েছে, জানা মাত্রই দ্রুত এর সমাধান খোঁজার কাজে নেমে পড়েছিল তারা। ওই দুষ্ট-সফটওয়্যারকে ঠেকানোর রাস্তা যেমন বার করেছে, তেমনই নিজেদের পরিকাঠামোতও বদল ঘটিয়েছে, ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থে। 

কাজটা করেছে কারা? হোয়াটসঅ্যাপ কারও নাম জানায়নি। প্রশ্নের জবাবে ই-মেলে তাদের এক প্রতিনিধি শুধু জানিয়েছেন, ‘হামলার ধরন’ থেকে এটা নিশ্চিত যে, সরকারকে নজরদারির সফটওয়্যার সরবরাহ করে থাকে, এমন একটি বেসরকারি সংস্থার কাজ এটি। তাদের সফটওয়্যারটি ফোনের অপারেটিং সিস্টেম (ওএস)-এর উপরে দখল কায়েম করতে সক্ষম। এই কারণে শুধু হোয়াটসঅ্যাপ আপডেট করাই যথেষ্ট নয় ফোনের অপারেটিং সিস্টেমও আপডেট করে নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন হোয়াটসঅ্যাপের ওই প্রতিনিধি। 

হোয়াটসঅ্যাপ নাম না বললেও, অন্যান্য সুত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে, আড়ি পাতার সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে ইজ়রায়েলের সাইবার সুরক্ষা সংস্থা ‘এনএসও গ্রুপ’। ২০১০ থেকে কাজ করছে এই সংস্থা। তাদের দাবি,  সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে প্রযুক্তি জুগিয়ে বিশ্বের স্বীকৃত সরকারগুলিকে তারা সাহায্য করে থাকে। ‘ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন’, ‘সিটিজেন ল্যাব’-এর মতো ডিজিটাল অধিকার রক্ষা সংগঠন বারবারই তথ্য প্রমাণ-সহ দেখিয়েছে, এনএসও গ্রুপের তৈরি সফটওয়্যার বিভিন্ন দেশে মূলত মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের নিশানা করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। 

এই দফায় হোয়াটস্যাপে দাঁত বসানোর কাজটা যদি ইজ়রায়েলি সংস্থাটির হয়, তবে কোন দেশের সরকার তাদের এই কাজের বরাত দিয়েছিল সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।