সংসদ বসবে দু’দিন পর। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সাংসদ ফারুক আবদুল্লা কি যোগ দিতে পারবেন? সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধীদের এই প্রশ্নের সদুত্তর মিলল না  সরকারের কাছ। পরে সাংবাদিক বৈঠকে এ নিয়ে সরব হয় কংগ্রেস। তাদের প্রশ্ন, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, ফারুক মুক্ত রয়েছেন। চাইলে সংসদে আসতে পারেন। কিন্তু একশো দিন পরেও কেন জন নিরাপত্তা আইনে তিনি বন্দি, জবাব দিক সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওই স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিরোধী সাংসদেরা কার্যত একই সুরে প্রশ্ন তোলেন, এনসি নেতা ফারুক ও তাঁর ছেলে ওমর আবদুল্লা, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি কবে মুক্তি পাবেন? সূত্রের খবর, জবাবে স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভল্লা শুধু জানান, বেশ কিছু নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাকিদেরও ধীরে ধীরে ছাড়া হবে। 

এই বৈঠকে কাশ্মীর প্রসঙ্গে আলোচনা হবে, স্থির ছিল আগে থেকেই। সূত্রের খবর, বিরোধীরা যাতে নানা প্রশ্ন তুলে সরকারকে কোণঠাসা করতে না-পারে, তার জন্য আলোচনা ভেস্তে দিতে  শুরু থেকেই তৎপর ছিলেন শাসক শিবিরের সাংসদেরা। যুক্তি দেন, স্থায়ী কমিটিতে দৈনন্দিন প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা হতে পারে না। তাই কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। সেই আপত্তি খারিজ করে কমিটি স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে জানতে চায়, গত একশো দিনে কাশ্মীরে কী হয়েছে।

আরও পড়ুন: মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়ার দফতরে সিবিআই হানা

সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা এতে জম্মু-কাশ্মীরের প্রায় তিন দশকের হিসেব তুলে ধরেন। জানান, ওই রাজ্যে ১৯৯০ থেকে ৭১ হাজার ২৫৪টি সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৪৯ জন সাধারণ নাগরিক, ৫২৯৩ জন নিরাপত্তা কর্মী ও ২২ হাজার ৫২২ জঙ্গির। নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রাখার পক্ষে সওয়াল করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তাদের দাবি, উপত্যকায় কড়াকড়ি থাকায় গত একশো দিনে প্রাণহানির সংখ্যা খুবই নগণ্য। ইতিমধ্যেই সেখানে মোবাইল সংযোগ চালু হয়েছে। পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে ইন্টারনেটও দ্রুত চালু হবে।