তখন ভোর সাড়ে ৪টে। মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম বেজে উঠল। সাড়ে ৫টার মধ্যে এয়ারপোর্টে যেতে হবে। ছোট মেয়েকে পৌঁছে দিতে। সে যাবে গুয়াহাটি। ঘরের আলো জ্বালিয়ে দিয়ে সকলকে ঘুম থেকে ওঠার তাড়া দিচ্ছি। যে মুহূর্তে হাতে টুথব্রাশ নিয়েছি, হঠাত্ ধুমম... করে একটা শব্দে পায়ের নীচের কংক্রিটের মেঝেতে এক তুমুল ঢেউ খেলে গেল। তার পর জানলার কাঁচের তীব্র ঝনঝন শব্দে বুঝতে পারলাম ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হয়েছে। সে কি ভীষণ শব্দ- বাড়ীর উপর দিয়ে যেন গোটা একটা ট্রেন চলে যাচ্ছে। ছোট মেয়ে এবং স্ত্রী ইতিমধ্যেই ভূমিকম্প... ভূমিকম্প... পরিত্রাহী চিত্কার করে বড় মেয়েকে ডাকতে শুরু করেছে। আমি এর মধ্যে দরজা খুলে বাড়ির লোহার গেট খুলে সকলকে নিয়ে সিঁড়ির শেষ প্রান্তে বিমের নীচে এসে দাঁড়িয়েছি। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চলে যায়। ভোরের অন্ধকারে ইনভার্টারের কিছু আলোতে দেখতে পাচ্ছিলাম ইলেকট্রিক পোস্টের তারগুলি তীব্র ভাবে দুলে উঠছে। মনে হল এটাই বোধহয় শেষ মুহূর্ত। প্রকৃতির কাছে অসহায় আত্ম-সমর্পণ।  

এই সংক্রান্ত আরও খবর...
• ঘুম ভেঙে গেল প্রচণ্ড দুলুনিতে
• ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা-সহ গোটা রাজ্য, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৬.৮