বিয়ের জন্য এক তরুণী মডেলের মাথায় ১২ ঘণ্টা পিস্তল ঠেকিয়ে রেখেছিল যে যুবক শনিবার তাকে গ্রেফতার করে এলাকা ঘোরালো পুলিশ। আর সেই সময় পুলিশের সামনেই দুই মহিলা এসে চটি দিয়ে মারলেন সেই যুবককে। অভিযুক্ত আলিগড়ের বাসিন্দা রহিত সিংহকে পরে আদালতে তোলা হয়। রহিতকে এক দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে খুনের চেষ্টার মামলা।

মিসরোদ এলাকার ওই ঘটনা নিয়ে এখন তোলপাড় ভোপাল। গত শুক্রবার ভোপালের মিসরোদ এলাকার একটি আবাসনের ছ’তলার ফ্ল্যাট থেকে ভেসে আসছিল এক তরুণীর আর্ত চিৎকার। ফ্ল্যাটের ভিতরে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এক তরুণী মডেলকে ১২ ঘণ্টা ‘বন্দি’ করে রেখেছিলেন রহিত। তাঁর দাবি, তিনি মেয়েটিকে ভালবাসেন। বিয়েও করতে চান। মেয়েটি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি নেই তাঁর। খবর পেয়েই হাজির হয় পুলিশ। কিন্তু উপায় ছিল না ভিতরে ঢোকার। দরজা ভাঙলেই মেয়েটিকে খুন করে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন রহিত।

 

রবিবার মিসরোদের পুলিশ ইনস্পেক্টর সঞ্জীব চৌসে জানান, ওই তরুণী মডেল সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি চান রহিতের ফাঁসি হোক। কারণ, জেল থেকে বেরনোর পর রহিত তাঁকে ফের জ্বালাতন করবেন। ফ্ল্যাটের ভিতরে দু’জনের ধস্তাধস্তির সময় রহিতের হাতে থাকা কাঁচিতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে তরুণীর গলার একাংশ।

মুম্বইয়ে থাকাকালীন ওই তরুণী মডেলের সঙ্গে আলাপ হয় রহিতের। মাস কয়েক আগে মুম্বই থেকে ভোপাল চলে আসেন ওই তরুণী। রোহিতের দাবি, তাঁরা পরস্পরকে ভালবাসেন। কিন্তু তাঁদের এই সম্পর্কে সায় ছিল না পরিবারের। তাই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে শুক্রবার সকালে সটান প্রেমিকার ফ্ল্যাটে চড়াও হন রোহিত।

আরও পড়ুন- বিয়ে করতেই হবে, পিস্তল ঠেকিয়ে ১২ ঘণ্টা ‘বন্দি’ তরুণী​

আরও পড়ুন- বিয়ে করতে চাই, মডেলকে আটকে পুলিশকে ভিডিয়ো কল বন্দুকধারী যুবকের​

তরুণী মডেলটি বলেছেন, ‘‘প্রথম দিকে রহিত আমাকে গুরুত্ব দিত না। মুম্বই থেকেই আমাকে জ্বালাতন করা শুরু করে। নভেম্বর থেকে আমাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকে। কাল আমাকে রহিত জোর করে স্ট্যাম্প পেপারে লিখিয়ে নিয়েছে, আমি ওকে বিয়ে করতে রাজি। ওকে জেলে পুরে রাখুন। না হলে ও আমাকে খুন করবে।’’

পুলিশ জানায়, সকাল ৬টা নাগাদ তরুণীর ছ’তলার ফ্ল্যাটে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা আটকে দেন বছর তিরিশের রহিত। প্রতিবেশীদের কাছে খবর পেয়ে হাজির হয় পুলিশ। বহুতলটি চার দিক দিয়ে ঘিরে ফেললেও ওই যুবক গুলি চালাতে পারে, এই আশঙ্কায় অবশ্য ভিতরে ঢুকতে পারেনি পুলিশ। এক পুলিশ কর্তার কথায়, ‘‘আমরা ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ওই যুবক সমানে হুমকি দিচ্ছিলেন। ওঁর কাছে একটি দেশি পিস্তল ও কাঁচি ছিল। যা দিয়ে তরুণীকে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন তিনি।’’ রোহিতের দাবি, ওই তরুণীর পরিবারের অভিযোগে অন্যায় ভাবে তাঁকে গ্রেফতার করে হেনস্থা করেছিল পুলিশ। তাই, বাধ্য হয়েই এ বার এই পথ নেন তিনি।

ভয় দেখিয়ে রোহিতকে বাগে আনতে না পেরে তাঁকে বুঝিয়েসুজিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে পুলিশ। ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে বন্ধ দরজার ও-পার থেকে কথা হয় দু’পক্ষের। দমকলের লিফ্টের সাহায্যে উঠে জানলা দিয়েও কথা বলে পুলিশ। এক সময়ে খাবার, জল, স্ট্যাম্প পেপার ও মোবাইল চার্জার চান রোহিত। পুলিশ ও মহকুমা শাসকের লাগাতার চেষ্টায় ১২ ঘণ্টা পর দরজা খুলতে রাজি হন তিনি। তাঁদের দু’জনকেই চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমিকা যে তাঁকে বিয়ে করতে রাজি, তা রীতিমতো স্ট্যাম্প পেপারে লিখিয়ে নিয়ে তবেই শান্ত হন রোহিত। তার পর জানলা দিয়ে দুই আঙুলে ‘ভি’ দেখিয়ে বোঝান, জয় হয়েছে তাঁর।

পুলিশের কাছে রহিত বলেছেন, বিয়েতে রাজি না হলে তিনি ওই তরুণীকে খুন করে আত্মঘাতী হতেন।