রাজঘাট থেকে গাঁধী-স্মৃতি, ঘুরে ঘুরে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফাঁকে দিল্লির বুকে আসর জমালেন তাঁরই দলের নেতা। তাঁকেই নিশানা করে খোলাখুলি বললেন, ‘‘দেশে ভয়ের পরিবেশ। বিজেপিতেও সকলে তটস্থ।’’ এর পরেই একগাল হেসে যশবন্ত সিন্‌হার মন্তব্য, ‘‘শুধু দু’জনেরই কোনও ভয় নেই। আমার আর শত্রুঘ্ন সিন্‌হার।’’

হাসির রোল সভায়। কংগ্রেসের রেণুকা চৌধুরি, তৃণমূলের দীনেশ ত্রিবেদী, এনসিপির মাজিদ মেমন, আপের সঞ্জয় সিংহ, আশুতোষ, আরএলডির জয়ন্ত চৌধুরি, জেডিইউ-এর পবন বর্মা, গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সুরেশ মহেতা, অটল সরকারের মন্ত্রী সোমপাল, হাসি চাপতে পারলেন না কেউই। ‘খামোশ’ বলেও অট্টহাসি থামাতে পারলেন না বিজেপি সাংসদ শত্রুঘ্ন সিন্‌হা।

যশবন্ত তখন ঘোষণা করছেন নতুন ‘অরাজনৈতিক’ মঞ্চ। নাম ‘রাষ্ট্রমঞ্চ’। বললেন, ‘‘হতে পারে এটি রাজনৈতিক মঞ্চ। কিন্তু কোনও দিন এটি রাজনৈতিক দল হবে না। এ মঞ্চে হবে মানুষের আন্দোলন।’’ শিবসেনা, টিডিপি ইতিমধ্যেই বিজেপির জোট ছাড়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। তার উপর উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ও বিজেপির শরিক নেতা ওমপ্রকাশ রাজভর মোদীর দুর্নীতি দমনের দাবি উড়িয়ে বলছেন, এই আমলে বরং বেড়েছে দুর্নীতি। মোদী সরকারের মন্ত্রী উপেন্দ্র কুশবাহা বিহারে লালুর দলের সঙ্গে মিলে কর্মসূচির আয়োজন করছেন।

নানা সমীক্ষা বলছে, এখনই ভোট হলে একার জোরে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না মোদী। নির্ভরতা বাড়বে শরিকদের উপর। ভোট আসতে আসতে মোড় ঘুরবে আরও। মওকা বুঝে শরিকরাও এখন বেগ দিতে শুরু করেছেন মোদীকে। আর বিরোধীরাও নানা ভাবে একজোট হতে তৎপর। নতুন মঞ্চ শুরুর দিন তাই বিরোধীদের পাশে নিয়েই মোদীকে তুলোধোনা করলেন যশবন্ত। ‘ভিড়তন্ত্রের তাণ্ডব’, বিরোধীদের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের অপব্যবহার, কৃষকদের কার্যত ‘ভিক্ষুক’ বানানো, কর্মহীনতা, বেহাল অর্থনীতি, বিচার ব্যবস্থার অস্থিরতা, সংসদ ও গণতন্ত্রের বিপদ, বিদেশনীতিতেও ৫৬ ইঞ্চির ব্যর্থতা— একে একে তুলে ধরলেন সব প্রসঙ্গই।

রাজীব গাঁধীর জমানায় বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংহ জনমোর্চা নামে দল গড়েছিলেন কংগ্রেস ছেড়েই। পরে যা জনতা দল হয় অন্য বিরোধীদের সঙ্গী পেয়ে। কিন্তু বিজেপিতে থেকেই কেন যশবন্তদের এই বিজেপি-বিরোধিতা? কেনই বা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হল না এ সব অসন্তোষ?

যশবন্তের ব্যাখ্যা, ‘‘কারও বিরুদ্ধে তো বলা হচ্ছে না। মানুষের বিষয় তোলা হচ্ছে।’’ আর শত্রুঘ্ন বললেন, ‘‘কে বললে প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর চেষ্টা হয়নি? তিনি শুনলে তো! সংসদের অধিবেশনের মতো দলের বৈঠকও ক্রমশ ছোট হচ্ছে। আর সেখানে সে সবই আলোচনা হয়, যা তাঁরা শোনাতে চান।’’

বিজেপি বলছে, এ সবের পিছনে আসলে কলকাঠি নাড়ছে কংগ্রেসই। দল এই নেতাদের উপেক্ষা করে চলছে। এখনও করবে।