সামুদ্রিক ঝড়ঝঞ্ঝার বিরুদ্ধে ম্যানগ্রোভের যে-অরণ্য সুন্দরবন-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রাকৃতিক প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তাকে বাঁচানোর যথেষ্ট উদ্যোগ না-থাকায় জাতীয় পরিবেশ আদালতও উদ্বিগ্ন। এতটাই যে, এই মুহূর্তে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ কী অবস্থায় রয়েছে, উপগ্রহ-চিত্র পেশ করে তা জানানোর জন্য রাজ্য সরকারকে মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছে তারা।

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ নষ্ট হতে বসেছে, এই আশঙ্কা করে জাতীয় পরিবেশ আদালতের কলকাতা বেঞ্চই সেপ্টেম্বরে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এই পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভের বর্তমান চেহারা কী রকম, নদী বা খাঁড়িতে দূষিত ডিজেল ব্যবহার করা হয় কি না, সেখানে বেআইনি ইটভাটা চলে কি না অথবা সুন্দরবন এলাকায় অবৈধ হোটেল বা রেস্তোরাঁ বন্ধ করা হয়েছে কি না ইত্যাদি বিষয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়েছে পরিবেশ আদালত। ওই আদালতের বিচারপতি প্রতাপ রায় এবং পি সি মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন নির্দেশ দিয়েছে, সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে উপগ্রহ-মানচিত্র অবশ্যই থাকতে হবে। সুন্দরবনের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তকে আদালত-বান্ধব নিযুক্ত করা হয়েছে।

সুভাষবাবু জানান, ম্যানগ্রোভের পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আগেই রিপোর্ট তলব করা হয়েছিল। কিন্তু বন দফতর এখনও কোনও রিপোর্টই পরিবেশ আদালতে জমা দিতে পারেনি। এ দিন ম্যানগ্রোভ মামলার শুনানি ছিল। পরিবেশ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের আইনজীবী বিকাশকুমার গুপ্তকে নির্দেশ দেন, ২১ জানুয়ারি সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ সংক্রান্ত উপগ্রহ-চিত্র আদালতে জমা দিতে হবে।

পুরীর দূষণ নিয়ে পরিবেশ আদালতে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন সুভাষবাবু। সোমবার সেই মামলায় জাতীয় পরিবেশ আদালতের চেয়ারপার্সন, বিচারপতি স্বতন্ত্র কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, ওড়িশা উপকূলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উপগ্রহ-চিত্র তুলতে হবে এবং তা জমা দিতে হবে আদালতে। স্বর্গদ্বার শ্মশানে ১৫ দিনের মধ্যে বৈদ্যুতিক চুল্লি নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে পুরীর সমুদ্রসৈকতের বেআইনি নির্মাণ অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এ দিন সুভাষবাবু পরিবেশ আদালতের কলকাতা বেঞ্চে অন্য একটি আবেদন করেন। আদালতে তিনি জানান, রাজ্য সরকার সম্প্রতি সুন্দরবনে বিভিন্ন শিল্পপতিদের নিয়ে গিয়ে সেখানে ‘ইকো-ট্যুরিজম’ বা পরিবেশ-পর্যটন চাসু করতে উদ্যোগী হয়েছে। আদালতে সুভাষবাবুর আবেদন, সুন্দরবন এলাকায় ইকো-ট্যুরিজম চালু করার আগে যেন নিয়ম মেনে পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আগে অনেক ক্ষেত্রেই তা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। উদাহরণ দিয়ে ওই পরিবেশকর্মী আদালতে জানান, রাজারহাটে স্যাটেলাইট টাউনশিপ তৈরির আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। সুভাষবাবুর আবেদন, সুন্দরবনের ক্ষেত্রে যেন সেটা না-হয়। ডিভিশন বেঞ্চ আগামী ২১ জানুয়ারি এই বিষয়ে লিখিত আবেদন পেশ করতে বলেছে সুভাষবাবুকে।