মাঠের মধ্যে এক যুবককে ফেলে শিং দিয়ে গুঁতোচ্ছিল কয়েকটা কাড়া। চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে স্ত্রী ছুটে এলেও কাড়াদের রুদ্ররূপ দেখে আর এগোতে সাহস পাননি। পড়শিরাও দৌড়ে এলে থমকে গিয়েছিলেন। তাঁদের চোখের সামনেই কয়েকটি কাড়া শিং দিয়ে ওই যুবককের মাথা ফাটিয়ে দেয়। পাঁজরে সজোরে লাথি মারে। ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই যুবক। হুড়া থানা এলাকার রাঙামেট্যা গ্রামে বুধবার বিকেলের ঘটনা। মৃত যুবকের নাম আনন্দ সিং সর্দার (৪৬)। এই ঘটনায় গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আনন্দ সিং সর্দারেরা দু’ভাই। চাষের কাজের জন্যই বাড়িতে কয়েকটি কাড়া রয়েছে। ছোটভাই মহানন্দ সিং সর্দারই বাড়ির গবাদি পশুদের দেখভাল করেন। এ দিন তিনি পাশে নপাড়া গ্রামে কলে ধান ভাঙাতে যান। আনন্দ কাড়াগুলিকে বাড়ির কাছএ মাঠে চরাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। কাছেই পুকুরে তখন স্নান করছিলেন কয়েকজন পড়শি। তাঁরা হঠাৎ ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন কাড়াগুলি আনন্দবাবুর উপরে হামলা চালিয়েছে। ভয়ে তাঁরা কাছে ঘেঁষতে পারেননি। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন তাঁর স্ত্রী বাসন্তীদেবীও। তিনি বলেন, “আমি একটা লাঠি নিয়ে ছুটে গিয়েছিলাম। কিন্তু কাড়াগুলোর এমন উগ্রমূর্তি আগে দেখিনি। হাতে ওইটুকু একটা লাঠি নিয়ে কাছে যেতে সাহস পাইনি। চোখের সামনেই সর্বনাশ হয়ে গেল।” সেই সময়ই বাড়ি আসেন মহানন্দ। তাঁর কথায়, “আমি লাঠি নিয়ে ছুটে গিয়ে কাড়াগুলিকে মেরে ভাগিয়ে দিই। কিন্তু ততক্ষণে দাদাকে ওরা শেষ করে দিয়েছিল।” প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শিং দিয়ে মাথায় আঘাত করেছিল আনন্দের মাথা ফাটিয়ে দেয়। বাঁচতে ছুটে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন আনন্দ। কিন্তু তিনি পড়ে যান। তাঁর পাঁজরে পা দিয়ে আঘাত করে একটি কাড়া। মূলত একটি কাড়াই মারমুখী মেজাজে আনন্দকে মেরেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

এই ঘটনায় গ্রামবাসী অবাক হয়ে গিয়েছেন। যে কাড়াটির আক্রমণের শিকার হয়ে আনন্দকে প্রাণ হারাতে হল, সেই কাড়াটি কিন্তু তাঁদের অপরিচিত নয়। মহানন্দের কথায়, “বছর ছয়েক আগে কাশীপুর হাট থেকে একজোড়া কাড়া কিনেছিলাম। তারপর থেকে ওরা আমাদের বাড়িতেই রয়েছে। অপরিচিত কাউকে দেখলে একটা কাড়া তেড়ে যেত বটে। কিন্তু কোনওদিন কাউকে এ ভাবে মারেনি। দাদার সঙ্গে কেন ওরা এমন করল বুঝতে পারছি না।”