আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি ফের জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলাটি উঠবে। তার আগে, ছাই দূষণ নিয়ন্ত্রণে কেমন ব্যবস্থা নিয়েছে তাপবিদ্যুত্‌ কর্তৃপক্ষ সেটা খতিয়ে দেখতে গত বৃহস্পতিবার বক্রেশ্বর ঘুরে গেলেন রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে তাপবিদ্যুতের ছাইদূষণে ক্ষতিগ্রস্ত চন্দ্রভাগা নদী তিনি দেখে গিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর মতামত মুখবন্ধ খামে আদালতে জানাবেন।

প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক বছর ধরে ছাই বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুত্‌ কেন্দ্রের ভরে যাওয়া ছাইপুকুর থেকে ছাই মিশ্রিত জল চন্দ্রভাগা নদীতে মিশে দূষণ ছড়াচ্ছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন, বিপন্ন হচ্ছে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য, চাষবাস, গবাদিপশু পালন। পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত জাতীয় পরিবেশ আদালতে একটি মামলা করেন অক্টোবরে। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই নভেম্বরে মাসের ২ তারিখ জাতীয় পরিবেশ আদালতের পূর্বাঞ্চলীয় শাখা তাপবিদ্যুত্‌ কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুত্‌ নিগমকে নির্দেশ দিয়েছিল, ছাইপুকুর থেকে কোনও ভাবেই যেন চন্দ্রভাগা নদী ও পাশ্ববর্তী এলাকায় ছাই ছড়িয়ে না পড়ে। তবে সেই নির্দেশের পর তেমন কাজ হয়নি দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের এহেন রিপোর্টের পর ফের ২৭ নভেম্বর চন্দ্রভাগা নদীগর্ভ ও দু-পাড় থেকে ছাই তুলে ফেলার ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল জাতীয় পরিবেশ আদালতের বিচারপতি প্রতাপ রায় এবং পিসি মিশ্রর ডিভশন বেঞ্চ। তারপর থেকে ছাইপুকুর থেকে ছাইমিশ্রিত জল যাতে নদীতে না মেশে এবং নদীগর্ভ থেকে ছাই সরানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ করেছিল কর্তৃপক্ষ। সে কাজে যে গতি আসার কথা স্থানীয় বাধায় তা নষ্ট হওয়ার অভিযোগ পরিবেশ আদালতে জানিয়েছিল বিদ্যুত্‌ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য বাধা দানের অভিযোগ মানেননি। তাঁদের দাবি ছিল, যন্ত্র লাগালেও নদীগর্ভ থেকে ছাই পরিষ্কারের কাজ ঠিক মতো হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশে কাজ শুরু হয়েছে ঠিকই। কিন্তু ছাই তুলে নদীর পাশেই জমিয়ে রাখা হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই ছাই ফের নদীতে মিশে দূষণ ছাড়াবে। তারপরই প্রশাসনের নজরদারিতে ছাই সরানোর নির্দেশ দেয় আদালত। সেই বিষয়ে রিপোর্ট দিতেই কল্যাণবাবু এসেছিলেন।

তাপবিদ্যুত্‌ কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মহীতোষ মাজি বলেন, “নদীগর্ভ থেকে ছাই সরিয়ে পাশে রাখা হয়েছে। সেই ছাই সরানো হবে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে। আমারা খরচ দেব। ছাই মিশ্রিত জল নদীতে মেশাও অনেকাংশে আটকানো গিয়েছে। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান তা দেখে গিয়েছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন ছাইপুকুর থেকে যে জল নদীতে মিশছে তা যেন পরিস্রুত হয়।”



ফুলের মাঝে।

 


বসন্তের আবাহন। শিলচরে পার্থ শীলের তোলা ছবি।