দলছুট হস্তিশাবককে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল কেশিয়াড়িতে। সোমবার সকালে বছর পাঁচেকের ওই হস্তিশাবকটিকে কেশিয়াড়ির কুসুমপুর এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তাড়া খেয়ে ছুটতে শুরু করে হাতিটি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বন দফতরের কর্মীরা। ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় হাতিটিকে ঘুম পাড়ানি গুলি করা হয়। আপাতত হাতিটিকে ঝাড়গ্রাম মিনি চিড়িয়াখানায় রাখা হবে বলে বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

বন দফতর সূত্রে খবর, কয়েকদিন ধরে নয়াগ্রামের ওড়িশা সীমানা এলাকায় একটি হাতির দল ঘোরাফেরা করছে। গত শুক্রবার সেখান থেকে দলছুট হয়ে এই শিশু হাতিটি নয়াগ্রামের ধুমসাইয়ের কাছে চলে আসে। বন দফতরের কর্মীরা হাতিটিকে তাড়িয়ে গত শনিবার ওড়িশা সীমানার কাছে নিয়ে যায়। মনে করা হয়েছিল, হাতিটি তার মূল দলের সঙ্গে মিশে যাবে। কিন্তু ফের পথ হারিয়ে হাতিটি রবিবার রাতে নয়াগ্রামের জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। সোমবার হস্তিশাবকটিকে কুসুমপুর এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন দফতরের কর্মীদের অনুমান, হাতিরা তাকে দলে না নেওয়ায় ফের শিশু হাতিটি অন্য পথে চলে এসেছে। 

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, লোকালয়ে হাতির তাণ্ডব কমাতে কয়েকদিন ধরেই ওড়িশায় বন দফতরের উদ্যোগে হাতি তাড়াতে অভিযান চলছে। তার জেরেই একটি হাতির দল নয়াগ্রামে ওড়িশার সীমানা এলাকায় ঘুরছে। খড়্গপুরের ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, “আমরা শুনেছি, ওড়িশায় হাতি তাড়াতে অভিযান চলছে। এর ফলে ওড়িশার হাতি জেলায় ঢুকে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ তো রয়েছেই। তবে এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে রাজ্য সরকারকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাব।”

সোমবার সকালে কুসুমপুর পঞ্চায়েত এলাকায় হস্তিশাবকটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। তাড়া খেয়ে হাতিটি ছুটতে শুরু করে। তার জেরে ফসলের ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান এডিএফও দীপককুমার মণ্ডল-সহ দফতরের কর্মীরা। প্রথমে হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু তা না হওয়ায় শিশু হাতিটিকে ঘুম পাড়ানি গুলি করা হয়। এর পর হাতিটিকে ঝাড়গ্রাম মিনি চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। খড়্গপুরের ডিএফও অঞ্জন গুহ জানান, আশা করেছিলাম নয়াগ্রামের সীমানা এলাকায় হস্তিশাবকটিকে ছেড়ে দিলে মূল দলটির সঙ্গে ও মিশে যাবে। কিন্তু হাতির দলটি ওকে গ্রহণ করেনি। এর ফলেই হস্তিশাবকটি আবার কেশিয়াড়ি এলাকায় এসেছিল। তাই ওকে আর সীমানা এলাকায় ফিরিয়ে না দিয়ে ঝাড়গ্রাম মিনি চিড়িয়াখানায় রাখা হচ্ছে।