সতীশ রী গুড় বিক্রি করে ভালই সংসার চালাচ্ছিলেন। আখের রস জাল দিয়ে বংশ পরম্পরায় গুড় তৈরি করেন  হাইলাকান্দি জেলার বেউল গ্রামের এই বাসিন্দা। ভাল গুড়ের জন্য বেশ নামডাক তাঁর। নিজের ছয় একর জমিতে শুধুই আখ চাষ করছিলেন। প্রতি বছর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে গুড় তৈরি শুরু হতো। কিন্তু এ বার বৈশাখে সে সবের চিহ্নও নেই। জঙ্গল থেকে নেমে এসে বাঁদরের দল সতীশবাবুর আখ খেত কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে। ক্রেতারা বাড়ি বয়ে এসে শেষ পর্যন্ত ফিরে যাচ্ছেন। আর মাথায় হাত সতীশবাবুর। বাঁদরের উত্পাতে একই অবস্থা এলাকার আরেক আখ চাষী হরিহর নুনিয়ার। তাঁর জীবিকায়ও থাবা বসিয়েছে এই বাঁদরকুল। সার্বিক ভাবেই তাদের বাঁদরামোয় অতিষ্ঠ এলাকার অন্য কৃষকরাও। এত কাল তাঁরা খেতের জিনিস বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছিলেন। এ বার নিজেদেরই সব্জি কিনে খাওয়ার অবস্থা। শুধু বেউলগ্রাম নয়, আয়নাখাল, শ্রীদামবস্তি, পাথরটিলা-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বাঁদরের উত্পাতে অসহায় মানুষ। জয়দ্রথ চৌহান, নির্মল দাসদের কথায়, ‘‘চাষবাসই আমাদের  পেশা। নিজের খেতের সব্জি বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতাম। বাঁদরের দল আমাদের পেশাটাই বদলে দিয়েছে। আমরা এখন শুধুই সব্জি বিক্রেতা। নিজের জমি ফাঁকা ফেলে রেখে অসমের খারুপেটিয়া, মেঘালয়ের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সব্জি কিনে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। সতীশ রী, হরিহর নুনিয়া, জয়দ্রথ চৌহান, নির্মল দাসের মত অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন। সংসার চলবে কী করে, দুশ্চিন্তায় তাঁরা। কিছু একটা করার দাবি নিয়ে সবাই গিয়েছিলেন জেলা বন আধিকারিক (ডিএফও) গুণীন শইকিয়ার কাছে। গুণীনবাবু বাঁদরের কথা শুনেই হাত তুলে দেন।