শান্তিপুরের এক বাগানে বেশ কিছু আম ও সেগুন গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হল। অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকার এক আমবাগানে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় শ’খানেক আম ও সেগুন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যেরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বন দফতর থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিত ভাবে অভিযোগও জানিয়েছেন তাঁরা।

কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি পাল্টায়নি। উল্টে তাঁদের নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। শাম্তিপুর থানাকে জানিয়েও কোনও ফল হয়নি, বলছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার শান্তিপুরে আসেন পরিবেশকর্মী অনুরাধা তলোয়ার-সহ একাধিক পরিবেশপ্রেমী। কথা বলেন স্থানীয়দের সঙ্গে। শান্তিপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এ দিন তারা এই বাগানের পাশাপাশি তিনটি বাগানে যান। অনুরাধাদেবীর অভিযোগ, ‘‘প্রচুর আম ও সেগুন গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে ওই বাগানে ১১টা গাছ কাটার অনুমতি নিয়ে প্রায় শ’দুয়েক আমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ওই জমির মালিক মারা গিয়েছেন ১২ বছর আগে। অথচ তারই চিকিত্‌সার খরচের জন্য ১১টি গাছ কেটে ফেলার অনুমতি এনে ওই বিরাট সংখ্যক গাছ কাটা হচ্ছে!’’ এলাকার পাঁচটি পুকুরও বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

শান্তিপুরের একটি পরিবেশপ্রেমী সংস্থা প্রথমে এই নিয়ে আন্দোলনে নামে। তাঁদের সদস্যদের নানা ভাবে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। সংস্থার সভাপতি চিকিত্‌সক গৌতম পাল বলেন, ‘‘এর আগেও শান্তিপুরে প্রচুর পরিমাণে গাছ কাটা শুরু হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। ১৯৯৪ সালে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, কোনও সরু গাছ কাটা যাবে না। আর এই নির্দেশ বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন শান্তিপুর থানার ওসি ও পুলিশ সুপারের উপরে। কিন্তু তার পরেও নির্বিচারে এই শহরে গাছ কাটা চলছে।’’ পুলিশের অবশ্য দাবি, তারা একাধিকবার গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন। তা হলে কী ভাবে এত গাছ কাটা হল? মেলেনি জবাব। শান্তিপুরের ৩ নম্বর রেলগেটের কাছে যে বাগানের গাছ কাটা নিয়ে এত বিতর্ক সেই বাগান মালিকের ছেলে কৌশিক গোস্বামী বলেন, ‘‘বাগানের সব ক’টি গাছ কাটার অনুমতি বন দফতর থেকে আনা হয়েছে। আর সেই মতই গাছ কাটা হয়েছে। এর মধ্যে বে-আইনি কিছু নেই।” বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ফলন্ত গাছ কাটার কোনও অনুমতি দেওয়া হয় না। এখানে ব্যতিক্রম কেন? বন দফতরের কৃষ্ণনগর রেঞ্জ অফিসার অমলেন্দু রায় বলেন, “এমনটা হওয়ার কথা নয়। ঠিক কী হয়েছে জেনে ব্যবস্থা নেব।”