আদতে বালুকণা থেকেই তার জন্ম। কিন্তু সেই বালুকণার সঙ্গে সাগরতটের বা ইমারতি দ্রব্যের বালির মিল নেই। তার পোশাকি নাম সিলিকন। এ-হেন বস্তুকেই উচ্চ মাত্রার রেডিয়ো-তরঙ্গের সার্কিট তৈরির কাজে লাগানোর পন্থা দেখালেন এক বাঙালি বিজ্ঞানী। তাঁর গবেষণা ইতিমধ্যেই গবেষণা সংক্রান্ত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকেরা বলছেন, এখন সবাই খুদে সার্কিট চাইছেন। কারণ, সার্কিট ছোট হলে যন্ত্রের আকারও হয় ছোট। যন্ত্র চালানোর ক্ষেত্রে শক্তিও কম খরচ হয়। তার ফলে সাশ্রয় হয় বিদ্যুতের।

অয়ন কর্মকার নামে এই বাঙালি বিজ্ঞানী খাস কলকাতার ছেলে। বালিগঞ্জ জগদ্বন্ধু ইনস্টিটিউশনের এই প্রাক্তনী দক্ষিণ শহরতলির একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন টেকনোলজিতে বিটেক এবং দুর্গাপুর এনআইটি থেকে টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমটেক পাশ করে ২০০৬ সালে যোগ দেন ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন বা ইসরো-য়। বর্তমানে চণ্ডীগড়ের ‘সেমি-কন্ডাক্টর ল্যাবরেটরি’-র অ্যাডভান্স মাইক্রো অ্যান্ড ন্যানো সিস্টেমস ডিভিশনে কর্মরত তিনি। কেন্দ্রীয় মহাকাশ দফতর তথা ইসরোর অধীন এই গবেষণাগারে মাইক্রো-ইলেকট্রনিক্স সংক্রান্ত গবেষণা হয়।

এখন যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ছোট ধরনের ‘সার্কিট’ ব্যবহৃত হয়। ‘ভেরি লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন’ এবং ‘আল্ট্রা লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন’ প্রযুক্তির সার্কিটে সিলিকনের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি বা মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগে সিলিকনের তৈরি সার্কিট ব্যবহার করা যায় কি না, তার খোঁজ করছেন দেশ-বিদেশের বহু বিজ্ঞানী।

অয়নবাবুর গবেষণা সেই চিপ তৈরির দিশাই দেখাচ্ছে। তিনি জানান, উচ্চ কম্পাঙ্কের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সার্কিট তৈরিতে এ বার সিলিকন ব্যবহার করা যেতে পারে। এত দিন পর্যন্ত সিলিকন উচ্চ কম্পাঙ্কের সার্কিটে ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত, ওই পদার্থের রেজিস্টিভিটি বা রোধক্ষমতা বদল করে তাকে মাইক্রোওয়েভ বা মিলিমিটার ওয়েভের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা গিয়েছে। এই প্রযুক্তিকে বলা হয় ‘সি-আরএফ’ (এসআই-আরএফ)।

ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহৃত হতে পারে সিলিকনের সার্কিট?

অয়নবাবু জানান, বাড়ির আলো, পাখা, এসি-র স্বয়ংক্রিয় ব্যবহার, নিরাপত্তা, চিকিৎসা পরিষেবা-সহ নানান ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ইন্টারনেট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। যাকে ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ গোত্রে ফেলা হয়। ৫জি নেট পরিষেবা, টেরাহার্জ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর সার্কিটের প্রয়োজন। যা সিলিকনের মাধ্যমেই প্রস্তুত করা সম্ভব।