গোড়া থেকে বারবার বাধার মুখে পড়েছে এই প্রকল্প। ৩ হাজার ৮৫০ কিলোগ্রামের দূতকে পাঠানোর জন্য বাহুবলী রকেট তৈরি করতে হয়েছে। তার পরেও অবতরণের মহড়ায় চন্দ্রযানের ল্যান্ডার বিক্রমের চারটি পায়ের দু’টি ভেঙে গিয়েছিল। তার চারটি পা আরও শক্তিশালী করার ফলেও ওজন কিছুটা বাড়ে। আরও শক্তি বাড়াতে হয় রকেটের। শেষমেশ উৎক্ষেপণের আগেও থমকে গিয়েছিল যাত্রা। কেউ কেউ বলছেন, উৎকণ্ঠা এমনই ছিল যে এ বার বিপদ কাটাতে নতুন করে পুজোও করেন ইসরোর শীর্ষকর্তারা।

শেষমেশ স্বস্তি আনল বাহুবলীর ১৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের পারফর্ম্যান্স!  এ দিনের উৎক্ষেপণ ছিল প্রযুক্তিগত ভাবে অত্যন্ত জটিল। শুধু পেল্লায় মাপের ৬৪০ টন ওজনের রকেটই নয়, উৎক্ষেপণের পদ্ধতি ছিল পুরোপুরি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত। ইসরো সূত্রের খবর, উৎক্ষেপণের নির্দিষ্ট সময়ের ১৪ মিনিট আগে রকেটের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কম্পিউটারের হাতে চলে যায়। নির্দিষ্ট সময়ে সেই কম্পিউটার ব্যবস্থাই উৎক্ষেপণ করেছে। ইসরোর মুখপাত্র বি আর গুরুপ্রসাদ জানাচ্ছেন, ‘অটোমেটিক লঞ্চিং সিকোয়েন্স’ বলা হয় এটিকে। উৎক্ষেপণের আগে এত ধরনের জটিল গাণিতিক হিসেব থাকে, এত ধরনের বিষয় হিসেব করতে হয় যে উত্তেজনার মধ্যে মানুষের পক্ষে সে সব নির্ভুল ভাবে করে ওঠা দুরূহ। তাই সব হিসেব কম্পিউটারের মগজে পুরে দেওয়া হয়। যন্ত্র দ্রুত ও নিখুঁত ভাবে সেই কাজ করে দেয়। 

চন্দ্রযান এখন কক্ষপথে। ৬ সেপ্টেম্বর রাতে (রাত বারোটার পরে হওয়ায় সরকারি হিসেবে ৭ সেপ্টেম্বর) চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে ম্যানজিনাস সি এবং সিমপেলিয়াস এন নামে দুটি গহ্বরের মাঝে অবতরণ করার কথা ল্যান্ডার বিক্রমের। তার পরে বিক্রমের পেটের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে চাঁদের মাটিতে গড়াবে রোভার প্রজ্ঞানের চাকা। আমেরিকা, রাশিয়া ও চিন এর আগে চাঁদে অভিযান চালালেও কোনও দেশ এখনও দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করেনি।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।