আপন গতিতে নেচে চলেছে এক মেয়ে। ছেলেটি তার দিকে ছুটে চলেছে দুরন্ত গতিতে। কাছে গিয়ে হাত ধরবে বলে। শেষ মুহূর্তে গতি সামান্য বেশি হয়ে গেলেই হারিয়ে যাবে সুদূর মহাকাশে। গতি কম হলে আছড়ে পড়বে মেয়েটির উপরে। কিন্তু দু’টোর কোনওটিই হয়নি। নিখুঁত ছন্দে তারা বাঁধা পড়েছে দু’জনে।

চাঁদের কক্ষপথে আজ নিখুঁত ভাবে পৌঁছে গিয়েছে ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রযান। সেই ঘটনাকে আজ প্রায় এ ভাবেই বর্ণনা করেছেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন। 

বেঙ্গালুরুতে ইসরোর সদর দফতরে বসে সকাল ৯টা ২ মিনিট থেকে ২৮ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে এই কাজটি সেরেছেন বিজ্ঞানীরা। কাজে লাগানো হয় চন্দ্রযান ২-এর তরল জ্বালানির ইঞ্জিন। ‘‘ওই সময়টা আমাদের হৃৎস্পন্দন প্রায় থমকে ছিল,’’ বললেন ইসোর-প্রধান শিবন। এর পরেই শুরু হয় অভিনন্দনের স্রোত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, যোগী আদিত্যনাথ ও দেবেন্দ্র ফডণবীসের মতো বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের পাশাপাশি অভিনন্দন জানায় ভারতীয় সেনাও। 

এ সবের উচ্ছ্বাস থেকে দূরে শিবন অবশ্য বলেছেন, ‘‘টেনশন কমল তা নয়, বরং আরও বেড়ে গেল।’’ কারণ, সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি দিতে হবে ৭ সেপ্টেম্বর। ল্যান্ডার বিক্রমকে আলতো ভাবে অক্ষত নামাতে হবে চাঁদে। বিজ্ঞানীদের পরিভাষায় যা সফ্‌ট ল্যান্ডিং। ভারত প্রথম বার এটা করতে চলেছে। তবে ইসরো আত্মবিশ্বাসী।

এ বার কী

• চাঁদকে চক্কর কেটে দূরত্ব কমাবে
• রোভার প্রজ্ঞানকে নিয়ে ল্যান্ডার বিক্রম ২ সেপ্টেম্বর আলাদা হবে অরবিটার থেকে 
• চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে বিক্রম নামবে ৭ সেপ্টেম্বর
• কয়েক ঘণ্টা পরে, চাঁদের ভোরে বেরিয়ে আসবে প্রজ্ঞান

তার আগে কক্ষপথ আড়ে-বহরে কমানো হবে ধাপে ধাপে। সবচেয়ে ছোট কক্ষপথ হবে ১০০x৩০ কিলোমিটার। মাঝে ২ সেপ্টেম্বর সারতে হবে একটি বড় কাজ। চন্দ্রযান ২-এর মডিউল দু’ভাগ করা। অরবিটার থেকে আলাদা হবে ল্যান্ডার বিক্রম। গোটা যাত্রা-পর্বের উপরে বেঙ্গালুরুর ‘ইসরো টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কমান্ড নেটওয়ার্ক’-এর ‘মিশন অপারেশনস কমপ্লেক্স’ থেকে নজর রাখা হচ্ছে। সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে ‘ইন্ডিয়ান ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ও। ইসরো জানাচ্ছে, কাল বেলা সাড়ে বারোটা থেকে দেড়টার মধ্যে চন্দ্রযান ২-এর কক্ষপথে সামান্য বদল ঘটানো হবে।