খোদ ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (আইএসএস) এসে হানা দিল ভিনগ্রহের ব্যাকটেরিয়া? এমনটাই দাবি রাশিয়ার এক নভশ্চরের।

সম্প্রতি রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস (TASS)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নভশ্চর আন্তন শ্কাপলেরভ বলেন, স্পেস স্টেশনের বাইরের দিকে পাওয়া গিয়েছে ওই ব্যাকটেরিয়াগুলি। তাঁর মতে, “এগুলি বাইরের দুনিয়া থেকে এসেছে এবং স্পেস স্টেশনের বাইরে বাসা বেঁধেছে।’’ আন্তনের এই মন্তব্যের পরই বেশ হইচই পড়ে যায়। ডিসেম্বর মাসে এই আন্তন শ্কাপলেরভের নেতৃত্বেই একটি রুশ মহাকাশচারী টিম যাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে।

আরও পড়ুন: 

মঙ্গলে কী ভাবে শহর গড়ে তুলবে, নকশা বানাল এমআইটি

 

কেঁচো জন্মাল মঙ্গলের মাটিতে, ফলবে ফসলও! আশায় বিজ্ঞানীরা

মহাকাশ স্টেশনের বাইরে প্রায়শই মহাকাশে ঢুঁ মারেন নভশ্চরেরা। মহাশূন্যে এই অভিযানকে বলা হয় ‘স্পেসওয়াক’। স্পেসওয়াকের সময়ে নানা রকম নমুনা সংগ্রহ করে স্পেস স্টেশনে জড়ো করা হয়। পরে সেগুলি পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় পৃথিবীতে। আন্তন জানিয়েছেন, এমনই এক স্পেসওয়াকের সময় নভশ্চরেরা যে নমুনা সংগ্রহ করেন, তার মধ্যে চলে আসে ব্যাকটেরিয়াগুলি।

তবে আদৌ কি ব্যাকটেরিয়াগুলি ভিনগ্রহের বাসিন্দা? বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। তাদের মতে, পৃথিবী থেকেই কোনওভাবে ব্যাকটেরিয়াগুলি পৌঁছে গিয়েছে স্পেস স্টেশনে। তাই এখনই তাদের ভিনগ্রহের বাসিন্দা বলে দাবি করাটা ঠিক নয়। গবেষণার জন্য মাঝে মাঝেই পৃথিবী থেকে ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোঅরগ্যানিসমের ‘স্যাম্পেল’ নভশ্চরেরা নিয়ে যান স্পেস স্টেশনে। পৃথিবীর চেনা পরিবেশের বাইরে মহাকাশে ওই প্রাণিগুলির আচরণ কেমন সেটা বোঝার চেষ্টা করা হয়। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, স্পেস স্টেশনে পাওয়া ব্যাকটেরিয়াগুলি মাইনাস ১৫০ ডিগ্রি থেকে ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকতে পারে।   তাই মনে করা হচ্ছে,  পৃথিবী থেকে নিয়ে যাওয়া কোনও স্যাম্পেলের সঙ্গেই স্পেস স্টেশনে পাড়ি জমিয়েছে তারা।  আবার অন্য একটি সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেটি হল, কোনওভাবে নভশ্চরদের থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে স্পেস স্টেশনে।

তাই শেষ পর্যন্ত একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে এই বিষয়ে আরও খোঁজাখুজি চলবে বলেই জানিয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।