• সবাই যা পড়ছেন

  • নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

গত ৫ বছরই দেড় শতাব্দীতে উষ্ণতম, আরও বাড়বে, হুঁশিয়ারি নাসার

main
ছবি- শটারস্টক।

Advertisement

২০১৯ সালটা ছিল গত ১৪০ বছরে দ্বিতীয় উষ্ণতম। গোটা বিশ্বে। আর গত দেড়শো বছরে সবচেয়ে বেশি গরম পড়েছিল আমাদের সদ্য ফেলে আসা দশকেই। যার মধ্যে গত পাঁচ বছরের মতো গরম আর কখনও পড়েনি দেড় শতাব্দীতে। দশক এগতে থাকলে তাপমাত্রা আরও বাড়বে।

নাসা এবং ‘ন্যাশনাল ওশ্‌নিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া)’-র পরিসংখ্যান বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে। এও জানিয়েছে, ১৮৮০ সাল থেকে বিশ্বে উষ্ণতম বছর হয়েছিল ২০১৬। তাপমাত্রার নিরিখে তার পরেই রয়েছে গত বছরটি। ১৯৫১ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত ৩০ বছরের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ২০১৯ সালটি ১.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট (বা, ০.৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) উষ্ণতর।

২০১০ থেকে শুরু হয়ে গত ডিসেম্বরে একুশ শতকের যে দ্বিতীয় দশকটা সবে শেষ হল, নাসা ও নোয়া জানিয়েছে, সেটাই ছিল গত দেড় শতাব্দীর উষ্ণতম দশক। তার মধ্যে শেষের পাঁচটি বছরেই (২০১৫ থেকে ২০১৯) সবচেয়ে বেশি গরম পড়েছিল।

নিউ ইয়র্কে নাসার ‘গর্ডার্ড ইনস্টিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজ (জিআইএসএস)’-এর অধিকর্তা গ্যাভিন স্মিথ বলেছেন, ‘‘গত দশকটিই ছিল দেড়শো বছরের মধ্যে উষ্ণতম। তাপমাত্রা-বৃদ্ধির হারটা অবশ্য গত শতাব্দীর ছয়ের দশক থেকেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ছয়ের দশক থেকে প্রতিটি দশকের তাপমাত্রাই তার পূর্ববর্তী দশকের চেয়ে বেশি হয়েছে। এই ট্রেন্ড থেকেই ইঙ্গিত মিলছে, দশক যত গড়াবে, পৌঁছবে পরের দশকগুলিতে, ততই বাড়তে থাকবে পৃথিবীর তাপমাত্রা।’’

বিশ শতকের চেয়ে ১.৭ ডিগ্রি বেশি, উনিশ শতকের চেয়ে ২ ডিগ্রি!

১৮৮০ সাল থেকে গত দেড়শো বছরে বেড়েছে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা। বেড়েছে পৃথিবীর তাপমাত্রাও। কী হারে?

নোয়া জানিয়েছে, উনিশ শতকের চেয়ে তাপমাত্রা বেড়েছে ২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা, ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কিছু বেশি। আর বিশ শতকের চেয়ে তাপমাত্রা বেড়েছে ১.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা, ০.৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কিছু বেশি।

যে ভাবে ‘জ্বর’ বাড়ছে পৃথিবীর, দেখুন ভিডিয়ো

শিল্প-যুগ শুরুর আগে পৃথিবীর তাপমাত্রা যা ছিল, শেষ তুষার-যুগের তাপমাত্রা ছিল তার চেয়ে ১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট কম।

দেড়শো বছরে গায়ের ‘জ্বর’ কেন এতটা বেড়েছে পৃথিবীর?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তার জন্য এক ও একমাত্র দায়ী কার্বন ডাই-অক্সাইড-সহ বিভিন্ন ধরনের গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন। বাতাসে উত্তরোত্তর ওই সব গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে চলার ফলেই পৃথিবীর গায়ের জ্বর এতটা বেড়েছে। যার জন্য দায়ী মানবসভ্যতাই। যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, উষ্ণায়ন।

আর্কটিক তেতেছে ৩ গুণ বেশি!

নোয়া অবশ্য এও জানিয়েছে, গত বছরে পৃথিবীর সব প্রান্তের সব দেশ কিন্তু একই ভাবে তেতে ওঠেনি। কোথাও তাপমাত্রা-বৃদ্ধির পরিমাণটা ছিল অস্বাভাবিক ভাবে বেশি। আবার কোথাও তাপমাত্রা ততটা বাড়েনি। গড় বার্ষিক তাপমাত্রার নিরিখে গত বছর আমেরিকার ৪৮টি প্রদেশের তাপমাত্রা গত দেড় শতাব্দীতে ছিল ৩৪তম। আবার সাতের দশকের পর গত বছরেই আর্কটিক ও তার লাগোয়া এলাকার তাপমাত্রা-বৃদ্ধির হার বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের তিন গুণ হয়েছে।

ছবি, গ্রাফিক ও ভিডিয়ো সৌজন্যে: নাসা

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন