প্রায় দু’দশক পর বৃহস্পতিকে হারিয়ে এই সৌরমণ্ডলে ‘চাঁদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি’টা জিতে নিল বলয় গ্রহ শনি। আরও ২০টি চাঁদের হদিশ মিলল শনির মুলুকে। তার ফলে, শনির চাঁদের সংখ্যা বেড়ে হল ৮২।

ওই চাঁদগুলি হাউইয়ের মওনা কিয়ায় বসানো ‘সুবারু’ টেলিস্কোপের চোখেই প্রথম ধরা দিল। ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নে’র মিরর প্ল্যানেট সেন্টার ওই আবিষ্কারের খবর দিয়েছে।

নয়ের দশক থেকেই ‘সেরা’র শিরোপা ছিল বৃহস্পতির

কার ক’টা চাঁদ, সেই ‘যুদ্ধে’ অনেক দিন ধরেই টক্কর চলছে বৃহস্পতি ও শনি গ্রহের মধ্যে। চাঁদের সংখ্যার দৌড়ে নয়ের দশক থেকেই ‘সেরা’র শিরোপাটি চলে যায় বৃহস্পতির মাথায়। বছরদেড়েক আগে আরও ১২টি চাঁদের হদিশ মেলায় সেই দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল বৃহস্পতি। তার চাঁদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৭৯টি। সেই রেকর্ড কেউ ছুঁতে পারবে বলে নিশ্চিত ছিলেন না জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

শনির আরও ২০টি চাঁদ: দেখুন ভিডিয়ো

টপকাতে খুব সময় নিল না শনি!

৬২টি চাঁদ নিয়ে সেই পিছিয়ে পড়ার ‘প্রতিশোধ’ নিতে কিন্তু খুব বেশি দেরি করল না শনি। তার মুলুকে গিয়ে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র আগে ‘ক্যাসিনি’ মহাকাশযানের পাঠানো তথ্যাদি ও ছবি শনির আরও ২০টি চাঁদের অস্তিত্বের কথা জানাল। ফলে, চাঁদের সংখ্যার নিরিখে অনেকটা পিছিয়ে থেকেও অল্প সময়ের মধ্যেই বৃহস্পতিকে টপকে গেল বলয় গ্রহ।

আরও পড়ুন- মেঘ ছাড়াই ‘ভুতুড়ে’ বৃষ্টি হয় শনির চাঁদে!​

আরও পড়ুন- খাবার নুন মিলল বৃহস্পতির চাঁদে, রয়েছে আমাদের মতোই মহাসাগর, জানাল নাসা​

১৭টি চাঁদ ঘুরছে শনির পিছনে, তিনটি সামনে...

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন ২০টি চাঁদের প্রত্যেকটির ব্যাস ৩ মাইল। তাদের মধ্যে ১৭টি চাঁদ পিছনের ১৭টি কক্ষপথ থেকে প্রদক্ষিণ করছে শনি গ্রহকে। আরও সহজ ভাবে বলতে হলে, নিজের কক্ষপথে শনি ঘুরছে যে দিকে, ঠিক তার উল্টো দিকের কক্ষপথগুলি থেকে বলয় গ্রহকে প্রদক্ষিণ করছে তার সদ্য হদিশ মেলা ১৭টি চাঁদ। যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, ‘রেট্রোগ্রেড ডিরেকশন’। বাকি ৩টি চাঁদ বলয় গ্রহকে প্রদক্ষিণ করছে সেই দিকেই, যে দিক দিয়ে নিজের কক্ষপথে ঘোরে শনি। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয়, ‘প্রোগ্রেড ডিরেকশন’।

সদ্য হদিশ মেলা শনির ২০টি চাঁদের কে কেমন? দেখুন ভিডিয়ো

শনিকে পাক মারতে চাঁদগুলির সময় লাগে ২ থেকে ৩ বছর

‘কার্নেগি ইনস্টিটিউশন ফর সায়েন্স’-এর বিজ্ঞানী স্কট এস শেপার্ড বলেছেন, ‘‘শনির নতুন যে ২০টি চাঁদের হদিশ মিলেছে, তাদের বেশির ভাগেরই বলয় গ্রহকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩ বছর। তবে সেই সবক’টি চাঁদই রয়েছে নিজের কক্ষপথে শনির ঘোরার দিকের ঠিক উল্টো দিকের কক্ষপথগুলিতে। রেট্রোগ্রেড ডিরেকশনে। যদিও প্রোগ্রেড ডিরেকশনে শনিকে প্রদক্ষিণ করছে যে তিনটি চাঁদ, তাদের মধ্যে ২টি বলয় গ্রহকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় কিছুটা কম। ২ বছর। সেই দু’টি চাঁদ অন্যদের তুলনায় অনেকটাই কাছে রয়েছে শনির।’’ বছরদেড়েক আগে জ্যোতির্বিজ্ঞানী শেপার্ডই বৃহস্পতির আরও ১২টি চাঁদ আবিষ্কার করেছিলেন।

শনির ৮২টি চাঁদের মধ্যে ৫৩টির নামকরণ হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। বাকি ২৯টির নামকরণের উদ্যোগ সবে শুরু হয়েছে।

ছবি ও ভিডিয়ো সৌজন্যে: নাসা ও কার্নেগি ইনস্টিটিউশন ফর সায়েন্স​