Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

খেলাধুলা...

যার ওপর রাগ হত তার কান কামড়ে নিত জীবন

মহাকাব্যিক পঁচিশ বছর! কখনও লাল-হলুদ, কখনও সবুজ-মেরুন। কখনও নীল জার্সির ভারত। পুরনো সেই সাম্রাজ্য বিস্তার আর তার ভাঙাগড়ার রুদ্ধশ্বাস কাহিনি ন

০১ নভেম্বর ২০১৪ ০০:০০
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

আমার ইস্টবেঙ্গল কোচ হওয়া কতকটা মোহনবাগান কর্তাদের উপর রাগ করে!

‘কর্তাদের’ না বলে ‘এক জন নির্দিষ্ট কর্তার উপর রাগ করে’ বলাই ভাল। তিনি শুধু মোহনবাগান কর্তাই ছিলেন না, তারও আগে ওই ক্লাবের প্রবাদপ্রতিম ফুটবলার। করুণা ভট্টাচার্য।

তার আগে আরও একটু পিছনের দিকে তাকালে ব্যাপারটা বুঝতে পাঠকের সুবিধে হবে।

Advertisement

জামশেদপুরে থাকার সময় থেকেই ওখানকার সাকচি অ্যাথলেটিক ক্লাবে আমার নিত্য যাতায়াত ছিল। অফ সিজন ট্রেনিংটা ওই ক্লাবেই করতাম। মজার ব্যাপার, সেই সময় সাকচির প্রায় সব কর্তা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তাঁদের মধ্যে আবার শৈলেশ দাস ইস্টবেঙ্গলের বেশ হোমড়াচোমড়া কর্তা। তিনি উনিশশো একাত্তরের ফুটবল মরসুম শেষ হতে না হতেই আমাকে পরের মরসুমের কোচ করার জন্য ইস্টবেঙ্গলকে বোঝাতে শুরু করে দিয়েছিলেন।

জ্যোতিষ গুহ সেই সময় ক্লাবের প্রধান পদে না থাকলেও তখনও তিনিই ইস্টবেঙ্গলে কার্যত শেষ কথা। শৈলেশবাবুর থেকেই শুনলাম, জ্যোতিষ গুহ নাকি ইস্টবেঙ্গলের ওয়ার্কিং কমিটিকে বলেছেন, ‘‘ওরে নাও। পিকে-র কোয়ালিটি আছে।”

আসলে তত দিনে সত্তরের এশিয়াডে ভারতের ব্রোঞ্জ জেতা ম্যাচে সুধীর কর্মকারকে রাইট ব্যাক থেকে সরিয়ে স্টপারে খেলিয়ে জাপানের পৃথিবী বিখ্যাত ফরোয়ার্ড কামামোতোকে আটকে দেওয়ার আমার সেই কাহিনি ময়দানে দুই বড় ক্লাবেই পৌঁছে গিয়েছিল।

বাহাত্তরের গোড়ায় এক দিন করুণাদা আমাকে ডেকে সরাসরি বললেন, “প্রদীপ, গেট রেডি। এ বার তুমি মোহনবাগানের কোচ হবে।”

সত্যি বলতে কী, আমার নিজেরও সেটাই মনে-মনে ইচ্ছে ছিল।

মোহনবাগানে খেলার স্বপ্ন নিয়ে আঠারো বছর বয়সে কলকাতায় এসেছিলাম। কিন্তু খেলতে হয়েছিল এরিয়ানে। তার পর বাকি ফুটবলজীবনটা ইস্টার্ন রেলে কেটেছিল। যে কারণে পুরোপুরি কোচিংয়ে আসার পরেও মনে একটা সুপ্ত বাসনা ছিল, কোনও দিন মোহনবাগানের জার্সি গায়ে চড়াতে যখন পারিনি, তখন না হয় কোচ হিসেবেই ওই ক্লাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করব। ফলে করুণাদার কথায় দারুণ তেতে উঠেছিলাম। মনে মনে সব পরিকল্পনা পর্যন্ত নিতে শুরু করে দিয়েছিলাম, মোহনবাগান কোচ হয়ে দলে কী কী নতুন জিনিস আমদানি করব! খেলায় কী কী নতুনত্ব আনব...।

কিন্তু কোথায় কী? দিনের পর দিন গড়িয়ে যেতে থাকল। সপ্তাহের পর সপ্তাহ। মাসের পর মাস। কিন্তু কী করুণাদা আর কী মোহনবাগান ক্লাব, কারও তরফ থেকেই আমার সঙ্গে আর কোনও রকম যোগাযোগ করা হল না।

ও দিকে, ইস্টবেঙ্গল তত দিনে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু আমি তখনও মোহনবাগানের ডাকের কথা ভেবে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে প্রাথমিকের বেশি কথাবার্তা এগোচ্ছিলাম না।

শেষমেশ যখন বুঝলাম, মোহনবাগান আর আমাকে কোচ করতে উৎসাহী নয়, ঠিক আমার খেলোয়াড়-জীবনের মতোই শুরুতে বিরাট আগ্রহ দেখিয়েও শেষে হাত গুটিয়ে নিল, তখন মোহনবাগানের উপর তীব্র অভিমান আর রাগে ইস্টবেঙ্গলকে চূড়ান্ত ‘হ্যাঁ’ বলে দিলাম।

আর ময়দানে কোনও বড় ক্লাবের কোচ হওয়ার আগেই সেই আমার বড় ক্লাবের কর্তাদের সম্পর্কে প্রথম ধারণা! সৌজন্যে করুণা ভট্টাচার্য। আজ তিনি প্রয়াত। তবু বলতে বাধ্য হচ্ছি। মাফ করবেন করুণাদা।

ইস্টবেঙ্গলে তখন ডা. দাসের যুগ। ডা. নৃপেন দাস। বিখ্যাত সার্জেন। চিকিৎসা জগতে সবাই এক নামে চেনে, মানে। ইস্টবেঙ্গলে তাঁর অষ্টপ্রহরের সঙ্গী বলতে ‘বসুশ্রী’ সিনেমা হলের মালিক মন্টু বসু আর সুবীর ঘোষ।

অজয় শ্রীমানী আর জ্যোতির্ময় সেনগুপ্তকেও কোনও দিন ভুলব না। ইস্টবেঙ্গলে আমার সাফল্যের পিছনে ওঁদের প্রচুর সাহায্য রয়েছে। শ্রীমানী পূর্ববঙ্গের লোক নন। তবে ঘটি হয়েও ইস্টবেঙ্গলের জন্য প্রচুর ভাল-ভাল কাজ করেছেন। আরও দু’জন মাঝবয়সি ছেলেকে দেখলাম সারাক্ষণ ইস্টবেঙ্গল সামলাতে। এক জনের নাম পল্টু দাস, অন্য জন জীবন চক্রবর্তী। দু’জনই উত্তর কলকাতায় কংগ্রেস পার্টিও করে। কিন্তু ক্লাবে রাজনৈতিক পার্টিটার্টির নাম মুখেও আনে না। তখন একেবারে কট্টর ইস্টবেঙ্গল।

ময়দানে যারা ‘জীপ’ নামে তখন থেকেই বিখ্যাত আর ফুটবলার মহলে দারুণ জনপ্রিয়ও।

তবে সব সময়ের জন্য যে, তা অবশ্য নয়। ‘জীপ’-কে ফুটবলাররা ভয়ও পেত। সত্তর দশকের প্রথমাংশে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব বেশ কয়েক বছর যে প্রায় একই টিম নিয়ে খেলার সুবিধে পেয়েছে, ‘সেট টিম’ মাঠে নামানোর সুযোগ ভোগ করেছে, তার পিছনে জীবন-পল্টুর অন্যতম অবদান।

ওই সময় ইচ্ছে থাকলেও ইস্টবেঙ্গলের অনেক তারকা ফুটবলারের মোহনবাগান বা মহমেডানে যাওয়া বোধহয় সম্ভব ছিল না।

জীবন সম্পর্কে এমন কথাও ময়দানে চালু ছিল, যার উপর ওর প্রচণ্ড রাগ হত, তার কান কামড়ে কেটে নিত। মির্জাপুর অঞ্চলে সত্তর দশকে অনেক লোক দেখা যেত, যাদের কান কাটা। মানে কানে কোনও না কোনও ক্ষত বা গভীর দাগ। আর সেই সব ক্ষতের কারণ নাকি জীবন! শুনেছি কানের মাংস/চামড়া মানুষের গোটা শরীরের চেয়ে অন্য রকমের হয়। কানের কোনও অংশ একবার কেটে গেলে তা আর কোনও ভাবেই সেলাই করা যায় না। চিকিৎসাশাস্ত্রেই নাকি অসম্ভব! ইস্টবেঙ্গলে আমার কোচিংয়ের প্রথম ইনিংসের অসাধারণ সফল চার বছরে ‘বেয়াড়া’ ফুটবলার বলতে গেলে সেই ভাবে এক জনও ছিল না। আজ স্বীকার করছি, এর জন্য আমি জীবনের কাছে ভীষণ ভাবে কৃতজ্ঞ। ও আজ প্রয়াত। তবে ওই রকম ক্লাব-অন্ত কর্মকর্তা আমি খুব কম দেখেছি।

বেশির ভাগটাই ইস্টবেঙ্গলে জীবন স্রেফ ক্লাবকর্মী ছিল। একেবারে শেষের দিকে, যখন পল্টু ইস্টবেঙ্গলে প্রধান কর্তা, তখন জীবনকে ওয়ার্কিং কমিটিতে এনেছিল। কিন্তু জীবন চক্রবর্তী মানেই ইস্টবেঙ্গলের তাবড় ফুটবলারদের কাছে একটাই ব্যাখ্যা— ‘ওরে বাবা, একটু বেগড়বাই দেখলেই জীবনদা কান কামড়ে কেটে নেবে!’ সুভাষ-হাবিব-গৌতম-সুরজিৎ, কে না আমাকে ওই সময় অন্তত একবার না একবার ভয়ে ভয়ে ওই কথা বলেনি!

তবু হাবিব-আকবরকে পঁচাত্তরে মহমেডান ছিনিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল থেকে।

আমি তো রীতিমতো শকড্! কারণ, দায়টা আমার উপরও খানিকটা এসে পড়েছিল। সেই প্রথম ইস্টবেঙ্গল অফিশিয়াল আমার দিকে আঙুল তুলেছিলেন। আর সেটাও স্বয়ং ডা. দাস। কারণ আমি বাহাত্তরে কোচের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই ওনাকে বলে দিয়েছিলাম, টিম হবে আমার বিচার বুদ্ধিতে। সেখানে কোনও কর্মকর্তার নাক গলানো চলবে না।

তখন পাল্টা ডা. দাসও আমাকে শুনিয়ে রেখেছিলেন, “খুব ভাল কথা। কিন্তু টিমের পক্ষে ভাল, এমন ফুটবলার অন্য দলে চলে গেলে কিন্তু আপনিই তাকে আটকাতে না পারার জন্য দায়ী থাকবেন। কী, রাজি?”

তাই পঁচাত্তরে যখন ইস্টবেঙ্গলের সামনে টানা ছ’বার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিরলতম ইতিহাস গড়ার হাতছানি, সে বছরই হাবিব-আকবরের মতো দু’জন অপরিহার্য শক্তি দল ছাড়ায় বিরাট ধাক্কা লেগেছিল মরসুম শুরুর আগেই ইস্টবেঙ্গলের গায়ে।

যদিও আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম, তত দিনে আমার টিমের বছরের পর বছর অসাধারণ ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ইস্টবেঙ্গলেই জনা কয়েক কর্তা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের এক জন প্লেয়ার রিক্রুটার। এত বছর পরে তাঁর নাম বলতে চাই না। বলাটা সমীচীনও নয়।

কিন্তু সেই রিক্রুটার চুপচাপ বসে না থেকে দলবদলের সময় আরও একটু বেশি তৎপরতা দেখালে হাবিব-আকবরকে হারাতে হত না আমাকে। কিন্তু সেটাও আমার একটা শিক্ষা হয়ে থেকে গিয়েছিল বড় ক্লাবের কর্তাদের চেনার ব্যাপারে!

এ ব্যাপারে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান কর্তারা প্রায় একই রকমের। এখনও সে রকম আছে। মানে, যে ফুটবলারকে ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগান মনে করবে পরের মরসুমে রাখবে না, সেই প্লেয়ারের নামে দলবদলের অনেক আগে থেকেই উল্টোপাল্টা কথা রটিয়ে দেবে। নানান কারণে বদনাম করবে। যাতে সেই ফুটবলার ইস্টবেঙ্গলের হলে তাকে নতুন মরসুমে মোহনবাগান সই না করায়। আবার সেই প্লেয়ার মোহনবাগানের হলে পরের বার তাকে যেন ইস্টবেঙ্গল না নিয়ে নেয়।

সোজা কথা হল, আমাদের ক্লাবের ন্যূনতম শক্তি যেন চিরশত্রুর শিবিরে গিয়ে না উঠতে পারে! যার জন্য সাতাত্তরে ইস্টবেঙ্গল থেকে সুধীর-গৌতমকে মোহনবাগানে আনতে গিয়ে আমার কালঘাম ছুটে গিয়েছিল ধীরেন দে-কে বোঝাতে!

ধীরেনদা কেবল বলে চলেছেন, “প্রদীপ, অন্য ক্লাবের ইনডিসিপ্লিন্ড ফুটবলারকে মোহনবাগান কখনও নেয় না, নেবে না।”

আসলে ছিয়াত্তরে লিগ চলার মধ্যেই ইস্টবেঙ্গল দু’টো প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে কোচবিহার গিয়েছিল। আমার কোচিংয়ে যেটা আমি কোনও দিন ইস্টবেঙ্গলে বরদাস্ত করিনি। গ্রাম বাংলায় মাঠ সাধারণত এবড়োখেবড়ো থাকে। ওই রকম মাঠে প্লেয়ারের বড় ধরনের চোট পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা।

সুধীর-গৌতমও যত দূর জানি, সে কারণেই লিগের মধ্যে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে গ্রাম বাংলায় যেতে চায়নি।

কিন্তু কড়া প্রশাসক ডা. নৃপেন দাস তাতেই সাসপেন্ড করে দিয়েছিলেন সুধীর-গৌতমকে।

পেশাদার কোচ হিসেবে আমি দেখলাম এই সুযোগ, আমার মোহনবাগান টিমে ওই রকম দুর্ধর্ষ একজন ডিফেন্ডার আর মিডিওকে পাওয়ার। কারণ সত্যি বলতে কী, আরও একটা সুধীর, বা গৌতম তৈরি করব বললেই তৈরি করা যায় না। এতটাই বড় জাতের ফুটবলার ছিল সুধীর আর গৌতম!

ধীরেন দে-কে সেই একবারই বলেছিলাম, “আপনার কোনও কথা আমি আজ পর্যন্ত অমান্য করিনি। কিন্তু এটা আপনি আমাকে করতে বাধা দেবেন না প্লিজ। আপনাকে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, সুধীর-গৌতমকে মোহনবাগানে আনার অনুমতি দিন আমাকে। কথা দিচ্ছি, আপনার ক্লাব টেন্ট ট্রফিতে ভরিয়ে দেব।”

ধীরেনদাকে শেষমেশ রাজি করাতে পেরেছিলাম। আর সাতাত্তরেই মোহনবাগান শিল্ড-রোভার্স-ডুরান্ড জিতে প্রথম একক ক্লাব হিসেবে ভারতীয় ফুটবলে ত্রিমুকুট পেয়েছিল।

বড় ক্লাবে কোচিং করাতে গিয়ে দেখেছি, তারা যে প্লেয়ারকে দলে রাখবে না, কিংবা যে প্লেয়ার সম্পর্কে ক্লাবকর্তারা বুঝে গিয়েছে, এই ছেলে পরের বার তাদের দলে কিছুতেই থাকবে না, অন্য দলের সঙ্গে পাকা কথা সেরে ফেলেছে, তার সম্পর্কে এমনকী মিথ্যে পুলিশ কেস পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছে!

সুরজিৎ সেনগুপ্তর নামে একটা বড় ক্লাব একবার দলবদলের সময় এ রকম মিথ্যে পুলিশ কেস দিয়ে ওকে বিপাকে ফেলতে চেয়েছিল।

এখনকার দিনে মোহনবাগানে অঞ্জন মিত্র-দেবাশিস দত্তরা কিংবা ইস্টবেঙ্গলে বাবু ভট্টাচার্যরা আবার অন্য স্টাইলে ব্যাপারটা করে।

হয় মিডিয়ায় চাউর করে দেয়, অমুক ফুটবলারের সঙ্গে আমাদের ক্লাবের আরও এক বছরের চুক্তি আছে। তার পরেও ওই প্লেয়ার কী ভাবে অন্য ক্লাবে সই করে!

কিংবা তমুক ফুটবলার তো এ বার আমাদের ক্লাবে খেলবে বলে আগেই এত টাকা অ্যাডভান্স নিয়ে নিয়েছে। ওকে তো এ বার সই করতেই হবে আমাদের টিমে। না হলে আইনি জটিলতায় পড়ে যাবে— এ রকম সব ভয়টয় দেখানো আর কী!

পল্টুরা আবার ওদের জমানায় অন্য দলের যে ফুটবলারকে পরের বার ইস্টবেঙ্গল নেবে ঠিক করত, সেই প্লেয়ারকে তার আগের মরসুমে সাধারণত শেষ টুর্নামেন্টের সময় (বেশি ডুরান্ড কাপেই ঘটত) গোপনে যোগাযোগ করে হাজার দুয়েক টাকা হাতে দিয়ে বলত, ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে তোর টিমের ম্যাচ যে দিন পড়বে শরীর খারাপটারাপ অজুহাত দেখিয়ে খেলিস না। তখনকার দিনে মধ্যবিত্ত ফুটবলারেরও দু’হাজার টাকা হাতে পাওয়া মানে তার পরিবারের প্রচুর সাহায্য হওয়া।

মডার্ন যুগেও কোনও ফুটবলারকে নিজের দলে না পেলে তার সম্পর্কে বদনাম দেওয়ার রেওয়াজটা ক্লাব অফিশিয়ালদের ভেতরে আছে।

কলকাতা ময়দান তো কোন ছার, ইউরোপিয়ান ফুটবলেও আছে।

এই তো এ বার সুয়ারেজ বার্সেলোনায় সই করতেই ওর পুরনো ক্লাব লিভারপুল মিডিয়ায় বলতে শুরু করে দিল, সুয়ারেজের মানসিকতায় গোলমাল আছে। নরখাদকের মতো মাঠে আচরণ করে। ফিফার শাস্তি খাওয়া প্লেয়ার।

অথচ সুয়ারেজ নিয়ে এত কথা যে কারণে, সেই উরুগুয়ে-ইতালি বিশ্বকাপ ম্যাচে চিয়েলিনির কান কামড়ে দেওয়ার পর লিভারপুল কিন্তু সুয়ারেজ নিয়ে একটাও খারাপ মন্তব্য করেনি। কেননা তখনও যে সুয়ারেজের দিকে বার্সেলোনা সেভাবে হাত বাড়ায়নি!

তাই কিছু-কিছু ব্যাপারে ময়দানের ক্লাবকর্তারা যেমন, অনেকটা সে রকমই বিলিতি ক্লাবকর্তারাও!

অনুলিখন: সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায়
(চলবে)



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement